
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে গ্রামীন উন্নয়ন মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড ও ‘গ্রামের আলো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি জগন্নাথ চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) শিবালয় থানায় প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে মোট ৪৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে চুক্তির মেয়াদ শেষে টাকা ফেরত চাইলে সংশ্লিষ্টরা তালবাহানা শুরু করে এবং এক পর্যায়ে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
মামলার বাদী শওকত হোসেন সাকিম (৫৬) অভিযোগে বলেন, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে টাকা জমা করেন। প্রতিষ্ঠানটি লভ্যাংশসহ ফেরতের আশ্বাস দিলেও মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও কোনো টাকা ফেরত দেয়নি। টাকা চাইলে হুমকিও দেয় অভিযুক্তরা।
ঘটনার সূত্র ধরে সোমবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগীরা ওই প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা বলেন, “তোমাদের টাকা ফেরত দিতে পারব না, যা ইচ্ছা করো।” তখন স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে জগন্নাথ চন্দ্র দাসকে আটক করে, বাকিরা পালিয়ে যায়।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—
১. জগন্নাথ চন্দ্র দাস (৪০), সভাপতি
২. মোঃ আলম হোসেন (৪৪), সাধারণ সম্পাদক
৩. মোঃ রজব আলী (৪০), সদস্য
৪. মোহাম্মদ আলী (৪০), সদস্য
৫. বলাই চন্দ্র দাস (৬০), যুগ্ম সম্পাদক
৬. গোপী নাথ দাস (৩৫), কোষাধ্যক্ষ
৭. সুমা রানী দাস (৩২), ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সদস্য
এছাড়াও আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
শিবালয় থানার ওসি মোঃ কামাল হোসেন জানান, “মামলার পরপরই জগন্নাথ চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।”
মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪১৭, ৪২০, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্ত করছেন শিবালয় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অসীম মন্ডল।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা জমা নিচ্ছিল। একইভাবে আরও অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ বলছে, প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক লেনদেন ও সদস্য তালিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
Leave a Reply