রাজধানীর সংসদ ভবন এভিনিউ সড়কে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনের অপরাধ বিভাগের স্টাফ রিপোর্টার আরমান ভূঁইয়া। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে, মনিপুরীপাড়া ৫ নম্বর গেটের সামনে।
শিবালয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের বর্ষপূতিতে ওলামা দলের বিজয় র্যালি
আরমান ভূঁইয়া জানান, তিনি ও তাঁর এক বন্ধু প্রথমে চক্রের একজনকে আটক করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে আরও তিনজন এসে তাদের ঘেরাও করে। পরে তেজগাঁও থানার ওসিকে ফোন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। তবে পুলিশ দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেই সুযোগে ছিনতাইকারী চক্রের আরও ১০–১৫ জন যোগ দেয় এবং পুলিশের সামনেই আরমান ভূঁইয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে পুলিশ আহত সাংবাদিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ সময় চক্রের কয়েকজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হলেও কিছুক্ষণ পরই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন আরমান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “চিকিৎসা শেষে থানায় ফিরে জানতে পারি, পুলিশ টাকার বিনিময়ে আটক ছিনতাইকারীদের ছেড়ে দিয়েছে। এরপর মামলা করার চেষ্টা করলে নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করা হয়।”
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিয়াজ উদ্দিন মোল্লা বলেন, “আমি আহত সাংবাদিক ও অভিযুক্ত কয়েকজনকে থানায় নিয়ে আসি। এরপর সাংবাদিককে চিকিৎসার জন্য ঢামেকে পাঠানো হয়। পরে আমি অন্য কাজে চলে যাই।”
তবে সেদিন থানার ডিউটি অফিসার এসআই নজরুল বলেন, “আটকের বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।”
ওইদিন রাতে দায়িত্বে থাকা এসআই আসাদুর রহমানের ভাষ্য, “ওসি স্যারের নির্দেশে আটক ব্যক্তিদের নাম–ঠিকানা রেখে গ্যারেজমালিকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।”
কেরানীগঞ্জে সাংবাদিক আরিফ সম্রাটকে হুমকি ও লাঞ্ছিতের অভিযোগ
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন বলেন, “সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ৫–৬ জন রিকশাচালককে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁদের ছাড়িয়ে নিতে ৫০–৬০ জন রিকশাচালক থানায় ভিড় জমায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।”
তবে একাধিক পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, সেদিন মাত্র ১০ জন ব্যক্তি থানায় এসেছিল।