আজমীর শরিফের মহান সাধক ও দরবেশ খাজা মইনউদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর শিষ্য শাহ ফরিদ (রহ.) ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ফরিদপুর অঞ্চলে আসেন। তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংলগ্ন এলাকায় একটি প্রাচীন বটগাছের নিচে আশ্রয় নিয়ে চিল্লা স্থাপন করেছিলেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে শাহ ফরিদ দরগা। মহান এই সাধকের নাম অনুসারেই জেলার নাম রাখা হয় ফরিদপুর।
https://mascarapersonality.com/perhhxsm?key=2dca62faf602ce660bc6592a630b519b
বর্তমানে সেই প্রাচীন বটগাছ আর নেই। এর স্থানে নির্মিত হয়েছে তিনতলা বিশিষ্ট সুদৃশ্য শাহ ফরিদ দরগা মসজিদ, যা এখন ফরিদপুরবাসীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের অন্যতম প্রতীক।
https://mascarapersonality.com/perhhxsm?key=2dca62faf602ce660bc6592a630b519b
ঐতিহাসিকভাবে ফরিদপুরের পূর্বনাম ছিল ফতেহাবাদ। পর্তুগিজ বণিকদের আগমন ও জমিদারি প্রথার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এ অঞ্চল ব্যবসা ও সেবাকেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হতে থাকে। অনেক আউলিয়া-দরবেশ ও পুণ্যাত্মার আবাসভূমি ছিল এ অঞ্চল। ধারণা করা হয়, জঙ্গল ও জলাভূমিতে ভরা এই জনপদকে বসবাসোপযোগী করে তোলেন শাসক জালাল উদ্দিন ফতেহ শাহ। তাঁর নামানুসারেই জায়গাটির নাম হয় ফতেহাবাদ। পরবর্তীতে আলাউদ্দিন হুসেইন শাহ ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দে এই নামকরণকে সরকারি স্বীকৃতি দেন এবং ফতেহাবাদকে বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে রূপান্তরিত করেন।
https://mascarapersonality.com/perhhxsm?key=2dca62faf602ce660bc6592a630b519b
শাহ ফরিদ (রহ.) এখানেই বটগাছতলায় ধর্মীয় আচার, ইসলামী জলসা, জিকির-আজকার, হামদ-নাতের আসর বসাতেন। জনশ্রুতি রয়েছে, এক সময় পদ্মা নদীর ভাঙন এই দরগার কাছাকাছি চলে আসলে শাহ ফরিদ (রহ.) আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। তাঁর ফরিয়াদের বরকতে নদীর স্রোত সরে গিয়ে দরগাটি রক্ষা পায়। বিশ্বাস করা হয়, ফরিদপুরের মানুষ নানা ঝড়-তুফান ও বিপদ-আপদ থেকে তাঁর বরকতেই নিরাপদ থাকেন।
https://mascarapersonality.com/perhhxsm?key=2dca62faf602ce660bc6592a630b519b
শাহ ফরিদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন,
“শাহ ফরিদ দরগা মসজিদ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু ফরিদপুর নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন নামাজ আদায় করতে এবং মনের আশা পূরণের নিয়তে দোয়া করতে।”
https://mascarapersonality.com/perhhxsm?key=2dca62faf602ce660bc6592a630b519b
ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংলগ্ন স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদ আজও ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা ও বিশ্বাসের এক জীবন্ত নিদর্শন।