মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ঘাটে “সেলফি” বাস কাউন্টারকে ঘিরে প্রতিদিন লাখ টাকার চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাসে যা দাঁড়ায় প্রায় অর্ধকোটি টাকায়। বিষয়টি প্রকাশ্য হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে না কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাটুরিয়া ঘাটের সেলফি বাস কাউন্টারের ইনচার্জ সুলতানের নেতৃত্বে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ম্যানেজ করেই চলছে এই চাঁদাবাজির কারবার।
বর্তমানে “সেলফি” বাস সার্ভিসের রুট পারমিট রয়েছে মাত্র ৮০টি বাসের, অথচ তাদের ব্যানারে চলাচল করছে প্রায় ৩৮৫টি বাস। এর অধিকাংশেরই রুট পারমিট ও ফিটনেস নেই। এসব অবৈধ যানবাহন প্রতিদিন ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে, যা সরকারের রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বাস ছাড়ার নির্ধারিত সময় ১০ মিনিট অন্তর হলেও সেলফি কর্তৃপক্ষ তা মানছে না—প্রতি ৩ থেকে ৪ মিনিট পরই ট্রিপ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালক ও সুপারভাইজার জানান,“চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রতিবাদ করলে ঘাটে সুলতান ও তার লোকজন আমাদের মারধর ও হুমকি দেয়। প্রতিবাদ করলেই চাকরি চলে যায়, তাই মুখ খুলি না।”
তারা আরও জানান,“পত্রিকায় খবর হলেও কোনো কাজ হয় না। কারণ, প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন পর্যায় পর্যন্ত সবাই এই চাঁদার ভাগ পায়।”
আরেকজন সুপারভাইজার বলেন,“বর্তমানে প্রায় ৩৮৫টি বাসের মধ্যে ৩৪০–৩৪৫টি নিয়মিত চলাচল করে। প্রতিদিন প্রতিটি বাস থেকে ‘জিপি’ বাবদ নেওয়া হয় ২৫০ টাকা। এভাবে প্রতিদিন পাটুরিয়া ঘাটেই উঠে প্রায় লাখ টাকা। এর মধ্যে কাউন্টার স্টাফদের বেতনসহ সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা খরচ হয়, বাকি টাকা যায় বিভিন্ন ব্যক্তির পকেটে।”
ঘাটের কাউন্টারের এক কর্মচারীর ভাষ্য,
“স্টাফ খরচ বাদে বড় অংশের টাকা যায় আলাল চেয়ারম্যান, সবুজ, রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসনের পকেটে। আর সবকিছু ম্যানেজ করে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন ইনচার্জ সুলতান।”
ইনচার্জ সুলতান অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“কোম্পানির নির্ধারিত স্টাফ বেতনের বাইরে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। যেটা নেওয়া হয়, সেটা বেতন বাবদ, চাঁদা নয়।”
শিবালয় মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলাল উদ্দিন আলাল বলেন,“সেলফি কাউন্টার থেকে কে বা কারা চাঁদা নিচ্ছে বা ভাগ করছে, সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।”
বরংগাঈল হাইওয়ে থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান,“রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি মহাসড়কে চলার সুযোগ নেই। নিয়মিত চেকপোস্টে যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাদের কাগজ ঠিক নেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
শিবালয় থানার ওসি মো. কামাল হোসেন বলেন,
“ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”