প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২৬, ৫:৪৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৬, ১০:৪৬ পি.এম
টাকা দিয়ে, ভয় দেখিয়ে দাঁড়িপাল্লাকে হারানো যাবে না-মিয়া গোলাম পরওয়ার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে।বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।আজ শনিবার বিকেলে খুলনার ফুলতলা উপজেলার স্বাধীনতা চত্বরে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, টাকা দিয়ে, ভয় দেখিয়ে দাঁড়িপাল্লাকে হারানো যাবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লার বিজয় ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে একটি পক্ষ বিপুল পরিমাণ কালোটাকা ব্যবহার করে সহিংসতা ও নাশকতার পরিকল্পনা করছে। শেষ পর্যন্ত এই টাকা দিয়ে চিহ্নিত দাগি পুরাতন সন্ত্রাসী যারা কারাগারে ছিল, যারা লুকিয়ে ছিল, তাদের বাইরে আনা হচ্ছে। এই সন্ত্রাসীদের একত্র করে অবৈধ অস্ত্রধারীদের সঙ্গে মিলিয়ে নির্বাচনের সময় কেন্দ্রভিত্তিক সহিংসতা ও নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এখন শুনছি, লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে সন্ত্রাসীদের বলা হচ্ছে বোমা বানাও, গুলি-বন্দুক কেনো, ঠেকাতে না পারলে কেন্দ্র দখল করতে হবে।’
স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাওয়া তিনটি দল সততা, চরিত্র, নৈতিকতা, আদর্শ ও আমানতদারির পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা বারবার পরীক্ষায় ফেল করে, তাদের আর পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয় না। জনগণ এবার সেই ফেল করা দলগুলোকেই রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে চায়।
বিএনপির উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই মায়েদের কাপড় খুলে দিতে চায়, তারা ক্ষমতায় গেলে গোটা জাতিকে বিবস্ত্র করে ফেলবে। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলেও দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি খাল-বিল, মাঠ-ঘাট দখল করা হয়, তাহলে ক্ষমতায় গেলে আমার মা, হিন্দু-মুসলিম কারও জানমাল নিরাপদ থাকবে না।’
নারী-পুরুষের পাশাপাশি সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন দাবি করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের গণসমর্থন দেখে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যার ফলেই হুমকি ও ভয়ভীতি ছড়ানো হচ্ছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। রাজনৈতিক পরাজয়ের ভয় থেকে মিথ্যাচার ছড়িয়ে এবার দাঁড়িপাল্লার জোয়ার থামানো যাবে না।’
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘উপজেলায়, ইউনিয়নে ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিপুল অঙ্কের টাকা ছড়ানো হচ্ছে। ভোট কেনা, লোকজন আনা ও প্রভাবিত করার মতো কাজ চলছে বলে শুনতে পাচ্ছি। আচরণবিধি মনিটরিং কমিটি ও জুডিশিয়াল দলের দায়িত্ব হচ্ছে এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা। প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পক্ষে কোথায় কত টাকা ছড়ানো হচ্ছে, সেটা প্রশাসন চাইলে অভ্যন্তরীণভাবে অনুসন্ধান করলেই জানতে পারবে।’ নির্বাচনের দিনে ভোটারদের মধ্যে যেন ভয় তৈরি না হয়, সে জন্য আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু বলেই শেষ নয়, কালোটাকার ব্যাপারে প্রশাসনের অ্যাকশন নেওয়া উচিত। তাহলেই ভোটটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তা না হলে উৎকণ্ঠা থেকেই যাবে।
ফুলতলা উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল আলিম মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, মিয়া গোলাম কুদ্দুস প্রমুখ।
Copyright © 2026 Muktangan News 24. All rights reserved.