প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৬, ৫:২৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৬, ১:৫৮ এ.এম
দেশের ইতিহাসে প্রথমবার কারাগার থেকে ভোট দিতে পারছে কারাবন্দীরা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করা ৫ হাজার ৯৯০ কারাবন্দীর মধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৭ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। শনিবার শেষ দিনে নিবন্ধন করা বাকি ১ হাজার ৯২৩ জন বন্দী পোস্টাল ব্যালটে ভোট না দিলে তাঁদের ভোট বাতিল হয়ে যাবে। জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আনিসুল হক, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদসহ ৩৯ জন ভিআইপি বন্দী ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগারের ৪ হাজার ৬৭ বন্দীর পোস্টাল ব্যালটে দেওয়া ভোটের খাম ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত নিবন্ধন করা বাকি ১ হাজার ৯২৩ বন্দীর পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫২১ জন বন্দী, পরদিন ৯৮৮ জন বন্দী, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৩৮ জন বন্দী এবং শুক্রবার ৪২০ বন্দী পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম কারাগারে থাকা বন্দীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করেছে সরকার। নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে কারা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বন্দীরা তিন সপ্তাহ ধরে অনলাইনে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ৫ জানুয়ারি এই নিবন্ধন শেষ হয়েছে, সেদিন দেশের ৭৫টি কারাগারে ৮৬ হাজার বন্দী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৫ হাজার ৯৯০ জন বন্দী নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ৩৮০টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বাকি বন্দীরা আবেদন করেননি।
ভোট দিতে নিবন্ধন করা ৩৯ জন ভিআইপি বন্দীর মধ্যে ২২ জন্য রাজনৈতিক নেতা, ১১ জন সাবেক সচিব, পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁরা সবাই রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জের বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি-প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, প্রথমবারের মতো কারাবন্দীরা এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে ভোটের জন্য নিবন্ধন করতে বন্দীদের আগ্রহ কম ছিল।
তিনি বলেন, বন্দীদের একটা অংশের মনে হয়েছে যেকোনো সময় তাঁরা জামিনে মুক্ত হতে পারেন। তাই নিবন্ধন করেননি। আবার বন্দীদের মধ্যে যাঁরা পুরোনো বন্দী, তাঁদের অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই।
আরেকজন কারা কর্মকর্তা বলেন, বন্দীদের একটি অংশ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী। তাঁদের নিবন্ধনে আগ্রহ কম ছিল।
নিবন্ধিত ভোটাররা কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ‘বহির্গামী খাম’ (ফরম-৯ক) পেয়েছেন। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য দুটি আলাদা ব্যালট পেপার, ভোট প্রদানের নির্দেশাবলি ও ঘোষণাপত্র (ফরম-৮) এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার ঠিকানাসংবলিত ফেরত খাম (ফরম-১০খ) রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়, জেলখানার ভেতরে ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষ বা উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ভোট গ্রহণ শেষে খামগুলো সুরক্ষিতভাবে সংগ্রহ করে দ্রুত ডাক বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে।
Copyright © 2026 Muktangan News 24. All rights reserved.