
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথম মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিএনপির নারী প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাচ্ছেন আফরোজা খানম রিতা। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে
এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে জেলার সাধারণ জনগণ তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন। তার ভূমিধস বিজয়ের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে মন্ত্রী করার জোর দাবি উঠেছে।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মানিকগঞ্জ-৩ (সদর-সাটুরিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে আফরোজা খানম পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটসমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট। ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ১০৩। ১৫১ কেন্দ্রের মধ্যে ১৫০টিতেই তিনি প্রথম হয়েছেন। স্বাধীনতার পর এই আসনে তিনিই একমাত্র নারী সংসদ সদস্য। ব্যবধানের এই উচ্চতা দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার নেতৃত্ব ছিল দৃঢ় অবস্থানের প্রতীক, যা তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের মধ্যে আস্থা ও সাহস জুগিয়েছে।
নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
জেলা শহর ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মনে করেন—মন্ত্রীত্ব পেলে জেলার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধ হবে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাক্ষেত্রে আরও গতি আসবে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা স্থাপন, নদীভাঙন রোধ এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তার কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন অনেকেই।
তবে এ বিষয়ে দলীয় উচ্চপর্যায় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। মন্ত্রিপরিষদ গঠন নিয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নেতাকর্মীরা। মানিকগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা—এই বিপুল জনসমর্থনের প্রতিফলন ঘটিয়ে জেলার এই জনপ্রতিনিধিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে।
আফরেজা খানম রিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী। তিনি মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, মুন্নু মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রেখে চলেছেন। সফল ব্যবসায়ী হিসেবে অর্জন করেছেন জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্বীকৃতি।
সমাজে নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
Leave a Reply