প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৯, ২০২৬, ৪:৩৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৫, ২০২৬, ১১:৩৮ পি.এম
আমরা কোন পক্ষে দাঁড়াবো?

কী বিদুঘুটে অবস্থা! একজন শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে যুদ্ধ বন্ধের মিনতি ছাড়া কীই-বা করার আছে আমাদের? মার্কিন পক্ষাবলম্বনের কোনো কারণ নেই। তাছাড়া আমাদের সাপোর্টের ধার কি মার্কিনীরা ধারে?
দাঁড়াতে হবে ইরানের পক্ষে। কিন্তু ইরান যা যা করছে তাতে তো কেবল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সৌদি আরব, বাহরাইন সহ পাঁচটি দেশে মার্কিন ঘাটিতে ইরানের হামলা চলছে। এতে মার্কিনীরা যতোটা না ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তারচেয়ে এসব দেশের জনগণের জানমালের অধিক ক্ষতি হচ্ছে। যদি খুব সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও দেখি তাহলে কোন মুসলিম ভাইদের পক্ষে দাঁড়াবো? তাছাড়া মানুষ হিসেবে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জন্যই তো ভাবতে হয়। সে যে ধর্মেরই হোক না কেন। যুদ্ধবাজ দেশের সরকারের প্রতি আমাদের ক্ষোভ থাকতে পারে, কিন্তু ঐ দেশের একটি নিষ্পাপ শিশু, একজন মা, একজন পিতা কী দোষ করেছে?
যুদ্ধে জয় পরাজয় আছে।কিন্তু সামগ্রিক ভাবে সবাই পরাজিত হয়। সবারই জানমালের ক্ষতি সাধিত হয়। আমেরিকার ক্ষতিটা তারা তাঁদের শোষণ পীড়ন, দখল দ্বারা পুষিয়ে নিতে পারে, কিন্তু গরীব দেশগুলো কী পারবে এই অপূরণীয় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে?
পৃথিবীর বহুদেশই আমেরিকার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বহারা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে আমেরিকার খেলা কিন্তু আজ নতুন নয়। তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য অর্থনৈতিক এবং ভু-রাজনৈতিক দিক থেকে আমেরিকার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খারাপ ভাষায় বলতে হয় মধ্যপ্রাচ্যের বহুদেশই আমেরিকার সাথে নিকাহ বন্ধনে আগেই আবদ্ধ হয়েছে। আমরা তাঁদের জন্য দোয়া করে কী করতে পারি?
অনেকদিন আগে এক রাজনৈতিক নেতার বক্তৃতা শুনছিলাম। তিনি বলছিলেন, একটা ডিসপেন্সারী দোকান উদ্বোধন করতে গিয়ে হুজুর দোয়া করছিলেন মালিকের ব্যবসা বাণিজ্য এবং আয় উন্নতি বৃদ্ধির জন্য। তাহলে অবশ্যই ঐ এলাকার অসুখ বিসুখ বাড়তে হবে। যখন অসুখ বিসুখ বাড়ে তখন আবার দোয়া করতে হয় বালা মুসিবত উঠিয়ে নেবার জন্য। বালা মুসিবত দুর হলে তো ডাক্তারী ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
আজ ইরান এক অসম যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে বাধ্য হয়েছে। আমেরিকার কাজই হলো কাউকে রাগিয়ে দিয়ে যুদ্ধে জড়ানো। অথচ প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকা যুদ্ধ করেছে বটে কিন্তু তা তার নিজ দেশের মাটিকে স্পর্শ করতে পারেনি। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ হলো ইউরোপ আর সুদূর প্রাচ্যের জাপান। এবারও সামগ্রিক ভাবে বিপর্যস্ত হবে মধ্যপ্রাচ্য। আমেরিকার সর্দার ইসরায়েলই মধ্যপ্রাচ্যের জন্য যথেষ্ট। তবে ইসরায়েলও যতোটা বগল বাজাচ্ছে ততোটা লাভ তার হবে না। ইতোমধ্যেই রাজধানী তেলাবিব সমূহ ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে।
জাতিসংঘ নামে একটা হিজড়া সংগঠন আছে। তার কাছে কান্নাকাটি করে আদৌ কি কোনো লাভ হবে? বরং তারচেয়ে নিষ্ঠুর ট্রাম্পের শরণাপন্ন হওয়া ভালো। রাশিয়া চীন কি সত্যি ইরানের পক্ষ হয়ে মাঠে নামবে? নামলেও তো সেই যুদ্ধই হবে।তাতে মধ্যপ্রাচ্যের অনুর্বর মাটি আরো তামা তামা হবে।কোটি কোটি মানুষ প্রাণ হারাবে, আশ্রয় হারাবে।
আমরা যে কোনো মূল্যে যুদ্ধের অবসান চাই। বাঁচুক মানুষ হাসুক ধরণী।
Copyright © 2026 Muktangan News 24. All rights reserved.