প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৯, ২০২৬, ৪:২৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৬, ২০২৬, ৫:৩০ এ.এম
ডিপিইও হিসেবে রাজসিক বিদায় সম্বর্ধনা পেলেন তারাকান্দা’র কৃতি সন্তান ওবায়দুল্লাহ শাহীন

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কাকনী ইউনিয়ন এর আউটধার গ্রামে এক শিক্ষক পরিবারে জন্মগ্রহন করেছিলেন ওবায়দুল্লাহ শাহীন। পিতা আব্দুল ওয়াহেদ ছিলেন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালদিঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পড়াশোনা করেছেন প্রাথমিক পর্যায়ে কাকনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মাধ্যমিক পর্যায়ে তালদিঘি উচ্চ বিদ্যালয়,উচ্চ মাধ্যমিক পর্যাযে আনন্দ মোহন সরকারি কলেজ এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে।
শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। তাঁর মা একজন রত্নগর্ভা মহয়শি নারী। ভাই-বোন সকলেই উচ্চ শিক্ষা নিয়ে সুনামের সাথে দেশে ও প্রবাসে চাকরিরত আছেন।
আজ ৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ছিল ওবায়দুল্লাহ শাহীন স্যারের শেষ কার্যদিবস ও বিদায় সম্বর্ধনা
অনুষ্ঠান। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবিগণ সুনামধন্য জনবান্ধব একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে রাজসিক বিদায় সম্বর্ধনা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য যে, চাকুরী জীবনের শুরুতেই তিনি বেশ কিছু সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগদান করলেও শিক্ষক বাবার আদর্শ তাকে শিক্ষা বিভাগে হাতছানি দিয়ে ডাকতো, তারাকান্দা বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ পূণরায় চালু হলে তিনি সবকিছু ছেড়ে এলাকার শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে অবৈতনিক প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালের এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানায় থানা শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তিনি চাকরি জীবনের শুরু করেন। তারপর বদলিজনিত কারণে চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ, জামালপুর জেলার জেলার জামালপুর সদর,টাংগাইল জেলার মির্জাপুর এবং নেত্রকোনা সদর উপজেলায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার দায়িত্ব পালন করেন। পদোন্নতি পেয়ে এডিপিইও নেত্রকোনা, এডিপিইও টাংগাইল, সহকারী বিশেষজ্ঞ নেপ, এডিপিইও শেরপুর, আবার এডিপিইও নেত্রকোনা, ডিপিইও সিলেট, ডিপিইও নেত্রকোনা, ডিপিইও শেরপুর এবং সবশেষে ময়মনসিংহ জেলায় ডিপিইও হিসাবে যোগদান করে আজ ৫ মার্চ /২০২৬ তারিখে চাকরি জীবনের সমাপ্তি ঘটলো। এরই মধ্যে ২০২৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ডিপিইও হিসাবে নির্বাচিত হন।
তিনি বলেন, "এই দীর্ঘ চাকরি জীবনে অসংখ্য শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে কর্মরত অন্যান্য সহকর্মীদের সংগে পরিচয় হয়েছে। আমি সকলের কাছে আমার ভুল -ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।আপনাদের কাছ থেকে অনেক কিছু পেয়েছি, কিন্তু কিছুই দিতে পারি নি"।
তারাকান্দা এলাকার এই গুণী সল্পভাষী, প্রচারবিমুখ, সৃজনশীল, জনবান্ধব, ক্রীড়ামোদী, সাংস্কৃতিকমনা মানুষটি এলাকার আপামর জনসাধারণের হৃদয়ে চির ভাস্বর হয়ে থাকবেন।শিক্ষা বান্ধব সৎ মানসিকতার মানুষ হিসেবে সারা দেশের সবার হৃদয়ে চির স্মরণীয় ও বরণীয় থাকবেন।

Copyright © 2026 Muktangan News 24. All rights reserved.