ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার কর্মরত পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম তার পরিবার তারাকান্দা থানা থেকে জামালপুর জেলার নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। হয়তো সবার মনে ছিল ঘরে ফেরার আনন্দ, পরিবারের সাথে কিছু সুন্দর সময় কাটানোর স্বপ্ন। কিন্তু কে জানতো সেই পথই হয়ে উঠবে জীবনের সবচেয়ে নির্মম অধ্যায়।
আজ সোমবার (১৬ মার্চ) শেরপুর থানাধীন নকলা পাইস্কা নামক স্থানে একটি বাসের সাথে বিপরীত হতে আসা সিএনজি'র মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নজরুল ইসলামের বড় ছেলে ঘটনাস্থলেই মৃ-ত্যু-বরণ করে। সেই সাথে শেষ হয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন কান্না হয়ে রয়ে গেল সারাজীবনের তরে।
জানা যায়, শেরপুর থানাধীন নকলা পাইস্কা এলাকায় তাদের বহনকারী সিএনজিটি পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বাসের সাথে তাদের সিএনজিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রচণ্ড শব্দে দুমড়ে-মুচড়ে যায় সিএনজিটি, আর সেই সাথে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় একটি সাজানো গোছানো পরিবারের স্বপ্ন। ঘটনাস্থলেই না ফেরার দেশে চলে যায় নজরুল ইসলামের বড় ছেলে।
নজরুল ইসলাম ছেলেকে নিয়ে আগামীর শত স্বপ্ন বুনেছিলেন, সেই বাবাকেই আজ স্তব্ধ হয়ে দেখতে হলো তার কলিজার টুকরো সন্তানের নিথর দেহ। যে পথ দিয়ে হাসি মুখে বাড়ি ফেরার কথা ছিলো, সেই পথই আজ হয়ে রইলো এক শোকাতুর দীর্ঘশ্বাসের সাক্ষী। রাস্তার ধুলোবালি আর রক্তের মিশেলে লেখা হলো এক বুক ফাটা আর্তনাদ।
শোকে স্তব্ধ এলাকা।
তারাকান্দা থানা এবং নিহতের গ্রামের বাড়ি জামালপুরে বইছে কান্নার রোল। সহকর্মীরা বাকরুদ্ধ, এলাকাবাসী শোকে পাথর। নিয়তির এই নিষ্ঠুরতা যেন মেনে নেওয়া যায় না। একটি সুন্দর সকালের শুরুটা এমন এক অন্ধকার বিকেলে গিয়ে শেষ হবে, তা কারোরই কল্পনাতে ছিলো না।
জীবন আজ হেরে গেছে মৃত্যুর কাছে, আর ফেরার আনন্দটুকু চিরতরে হারিয়ে গেছে বুক ফাটা আর্তনাদে।