গ্যাব্রিয়েল ওমার বাতিস্তুতা।
এ নামে তাঁকে সতীর্থরা খুব কম ডাকতেন। ভক্তরাও। সবার কাছে তিনি ছিলেন ‘বাতিগোল’!
যে নাম শুনলেই নব্বই দশকের ফুটবল রোমান্টিকদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে দীর্ঘ সোনালি চুলের এক স্ট্রাইকারের ছবি। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে যিনি ছিলেন এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো—চলে যাওয়ার পর থাকত শুধু ক্ষতির হিসাব।
১৭ বছরের ক্যারিয়ারে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৩৫০-এর বেশি গোল করেছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে ৭৮ ম্যাচে ৫৬ গোল করে দীর্ঘদিন ছিলেন দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা, যে রেকর্ড পরে অন্য সব রেকর্ডের মতোই নিজের করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি।
সম্প্রতি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ইংল্যান্ড কিংবদন্তি রিও ফার্ডিনান্ডের পডকাস্ট ‘রিও ফার্ডিনান্ড প্রেজেন্টস’-এ হাজির হয়েছিলেন ৫৭ বছর বয়সী সাবেক এই আর্জেন্টাইন তারকা। সেই আড্ডায় উঠে এল অভাবের তাড়নায় বাতিগোলের ফুটবল বেছে নেওয়া, ম্যারাডোনার একাকী মৃত্যু আর অসহ্য যন্ত্রণায় নিজের পা কেটে ফেলার আকুতির মতো সব শিহরণজাগানো গল্প।
রিও ফার্ডিনান্ডের সঙ্গে পডকাস্টে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা।ইউটিউব
ফুটবলার নয়, হতে চেয়েছিলেন চিকিৎসক
ছোটবেলায় বাতিস্তুতার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। ফুটবল? সেটা তখন তাঁর জীবনের লক্ষ্যই ছিল না। বরং বাস্কেটবল, টেনিস, হ্যান্ডবল, জিমন্যাস্টিকস, এমনকি ব্যালে নাচও শিখেছিলেন। বাতিস্তুতা হাসতে হাসতে বললেন, ‘এগুলো আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। বাস্কেটবল আমাকে লাফাতে শিখিয়েছে, টেনিস শিখিয়েছে দ্রুত নড়াচড়া করতে এবং পায়ের কাজ দ্রুত করতে।’
ফুটবলার নয়, শৈশবে ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন বাতিস্তুতা।বাতিস্তুতার ফেসবুক
কিন্তু চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন? সেটা থেমে যায় পরিবারের আর্থিক অনটনে। পড়াশোনার খরচ জোগাতে বাড়ি থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে রোজারিওতে চলে গেলেন। সেখানেই প্রথম দেখা হলো মার্সেলো বিয়েলসার সঙ্গে। ‘তিনি ছিলেন চরম পেশাদার, আর আমি পেশাদার ফুটবল সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। তিনি আমাদের দৌড়ানো, অনুশীলন করা, খাওয়া সবকিছু শিখিয়েছেন। তিনিই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোচ’—বলেছেন বাতিস্তুতা।