ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীরা ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উপর মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে,এসময় ময়মনসিংহ-২ আসনের এমপি মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ কে হেনেস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এবং নিজেদের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দেন সংসদ সদস্য।
আজ মঙ্গলবার (১৪এপ্রিল) সকাল বেলা তারাকান্দা উপজেলা কমপ্লেক্সের মেইনগেইটে ১লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে উক্ত ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সংসদ সদস্য তার লিখিত বক্তব্যে জানান যে, "তারাকান্দা উপজেলা প্রশাসন শুভ নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে আমাকে প্রধান অতিথি হিসেবে দাওয়াত প্রদান করে। উক্ত দাওয়াতে আমি এবং আমার ১১ দলীয় জোটের বেশ ক'জন নেতাকর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্ভোধন ও বাঙালির ঐতিহ্যের সাংস্কৃতিক একটি অনুষ্ঠানে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে যাওয়ার পথে বিএনপি'র পরাজিত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার ও তার নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। আমি উক্ত বিষয়টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি, সেই সাথে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে সম্মিলিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিকালে একটি ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী- দের নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। ন্যাক্কারজনক এই হামলার ঘটনায় আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি"।
এ বিষয়ে ১১ দলীয় জোটের নেতা আব্দুস সবুর খান জানান, তারাকান্দা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত বৈশাখী অনুষ্ঠানে পরাজিত বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার ও তার গ্রুপ কর্তৃক সন্ত্রাসী হামলার শিকার স্থানীয় সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ এমপি ও আমাদের দলীয় নেতৃবৃন্দেকে হেনেস্তা ও হামলা করার প্রতিবাদে আজ বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করা হবে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএনপি'র মনোনয়ন নিয়ে এ আসনে নির্বাচন করা ময়মনসিংহ জেলা বিএনপি (উত্তর) এর একমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট দিয়ে জানান যে, "তারাকান্দায় বৈশাখের অনুষ্ঠানে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা কারো সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে নাই, তারাকান্দা স্কুল থেকে আসা মেয়েদের র্যালীর ভিতর দিয়ে একজন উগ্র লোকের ঠেলে যাওয়া নিয়ে ছেলেদের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হলে আমি নিজে গিয়ে থামিয়ে দেই। পরে এমপি মহোদয় জাতীয় পতাকা উওোলন করে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন"।
এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্যের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার জন্য বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে সভা ও বিক্ষোভ মিছিল আহবান করা হয়, সভায় সকল নেতৃবৃন্দকে যথা সময়ে উপস্থিত থাকার আহবান জানান, তারাকান্দা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম তালুকদার ছালাম।
বিকেলে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভা শেষে তারাকান্দা সরকারি ডিগ্রি কলেজ গেইটের সামনে বিএনপি ও ১১ দলের নেতাকর্মীদের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। সংর্ঘষে দু'দলের বেশ ক'জন নেতাকর্মী সহ বেশ ক'জন পথচারী আহত হওয়ায় খবর পাওয়া গেছে। তারাকান্দা থানা পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
আহতদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আহতদের মাঝে একজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে তারাকান্দা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা কমিটির(উত্তর) যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন," আমাকে কারচুপির মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে। তারাকান্দা ফুলপুর উপজেলা'র মানুষ আমার সাথে আছে তাদের সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।সরকার বিরোধী শ্লোগান দেওয়ার জন্য দলের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী ১১ দলের মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে শুনেছি। আমাদের প্রতিবাদ মিছিলে ১১ দলের লোকজন হামলা করে পথচারীসহ বেশ ক'জন নেতাকর্মী কে আহত করেছে। তিনি আগামীকাল সকল দলীয় নেতৃবৃন্দকে পার্টির কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার আহবান জানান।
বর্তমানে তারাকান্দা উপজেলা সদরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে,উভয় দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে আবারো গণ্ডগোলের আতংকে ১লা বৈশাখের অনুষ্ঠানের আমেজ কিছুটা হলেও ম্লান হয়েছে বলে জানান আগত দর্শকগন। উপজেলায় প্রতিবারের মতো বেশ ক'টি বড়সড় অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকলেও এ ঘটনায় বাকি অনুষ্ঠানে যায়নি সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের অনেকেই।
প্রথমবারের মতো পহেলা বৈশাখ এর আনন্দময় দিনে তারাকান্দা উপজেলা সদরে থেমে থেমে অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনায় বেশকিছু অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকগণ।
বর্তমানে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানান অফিসার ইনচার্জ তানভীর আহম্মেদ।