ময়মনসিংহের ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের কিছু জায়গায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। প্রতিবার ধান কাঁটার মৌসুমে কৃষকের মুখে হাসি থাকলেও এবার দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ পরিলক্ষিত হচ্ছে। শিলাবৃষ্টি, শ্রমিকের অতিরিক্ত মুজুরি, তাছাড়া ধান কাঁটা,মাড়াই সহ হার্ভেস্টার মেশিনের জন্য ডিজেল পেতে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কর্মঘন্টা নষ্ট হওয়া উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রান্তিক কৃষকগণ।
একটা সময় মাঠে মাঠে সোনালী পাকা ধান দোল খাচ্ছে আর আনন্দে বিমোহিত হতো আমাদের কৃষক৷ এলাকায় বোরোর মৌসুম শুরু হয় আমনের মৌসুম শেষ হবার পরে।ধান রোপণ আরম্ভ হয় বাংলা কার্তিক-অগ্ৰহায়ণ (অক্টোবর-নভেম্বর) মাস থেকে এবং ধানকাটা চলে বাংলা বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ (এপ্রিল-জুন) মাস পর্যন্ত। ধান কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াই,সিদ্ধ করে শুকানো নিয়ে যেন এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এই কৃষি প্রধান এলাকার মানুষের মাঝে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বোরো ধান ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছিল তবে বেশ ক'টা ঝড় ও শিলাবৃষ্টি তাদের সেই সোনালি স্বপ্নে বাগড়া দেয়।
গোপালদারিকেল গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান জানিয়েছে,সনাতন পদ্ধতিতে ধান কাটার সাথে সাথে এখন হার্ভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে বোরো ধান কাটা চলছে। এতে সময় ও খরচ বেঁচে যাচ্ছে।ধানকাটার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন কৃষকসহ কয়েক সহস্রাধিক শ্রমিক এবং শিক্ষার্থীগণ সাহায্য করছে পরিবারগুলোকে। অল্প সময়ের মধ্যেই হয়তো এলাকার শতভাগ ধান কাটা শুরু হবে। তবে শ্রমিকের মজুরী বেশি এবং ধানের উৎপাদনের চেয়ে দাম কম হওয়ায় কিছুটা হতাশ, প্রতিমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৯০০ হতে ৯৫০ টাকা দরে।
ফুলপুর উপজেলার সিংহেরশ্বর ইউনিয়নের সঞ্চুর গ্রামের কৃষক ও শিক্ষাবিদ সহযোগী অধ্যাপক আকবর আলী আহসান বলেন, আর কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এখনো বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পারবে এলাকার কৃষিজীবিগণ।তবে মূল সমস্যা ওজনে কারচুপি ও মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া এবং ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের জন্য তারা ধানের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হবে।
ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক এনামুল হক মনি বলেন, ‘সবেমাত্র আমরা ধান কাটা শুরু করেছি। এবার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। শ্রমিক দিয়ে খুব সহজেই ধান কেঁটে ঘরে তুলতে পারবো কিনা জানিনা। তাই কষ্ট করে নিজেরাই ধান ঘরে তুলতে কাজ করে যাবো।’আগে ধানসিদ্ধ করে শুকিয়ে এক বছরের খোরাকী সংগ্রহ করে রাখবো।দাম কিছুটা বাড়লে অবশিষ্ট ধান বিক্রি করে দেবো।
জেলায় ধানের ফলন এ বছর মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক কোনও দুর্যোগ যেমন ঝড়-তুফান, শিলাবৃষ্টি এসব না হলে আশা করা যাচ্ছে আগামী ২০/২৫ দিনের মাঝেই সব ধানকাটা শেষ হয়ে যাবে। ফুলপুর - তারাকান্দা উপজেলার কৃষি অফিসারগণ ও উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তাগণ মাঠ তদারকিতে ব্যস্তসময় পার করছেন, দু'এক জায়গায় অতিবৃষ্টি, কালবৈশাখী ও বেশ কিছু জায়গায় শিলাবৃষ্টি হওয়ায় ৮০% পেকে গেলেই দ্রুতগতিতে এলাকার ধান কাটা শেষ করতে তারা পরামর্শ দিচ্ছেন। দুই উপজেলায় প্রায় ৪০/৫০ টির মতো ছোট বড় হারভেস্টার মেশিন এখন ধান কাটায় ব্যস্ত সময় কাঁটাতে মুখিয়ে আছে। আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই শতভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়ে যাবে।
তবে শত আনন্দের মাঝে কিছু কিছু জায়গায় গুণগত মান সম্পন্ন বীজ, সার, কীটনাশক এর অপ্রতুলতার জন্য ফলন মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।