ঢাকার পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল সাভারে লোডশেডিং এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে সারাদেশে চলমান এসএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে গড়ে ৫ থেকে ৭ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রতিবার ৩০ মিনিট থেকে শুরু করে কখনও ২-৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। আশুলিয়া, হেমায়েতপুর, বিরুলিয়া ও সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এ সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাদের পড়াশোনার সময় প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ব্যাহত হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনেকেই মোমবাতি বা চার্জলাইটের আলোতে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে।
এক পরীক্ষার্থী বলেন, “পরীক্ষা চলছে, কিন্তু ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছি না। বিদ্যুৎ চলে গেলে মনে হয় সব অন্ধকার হয়ে যায়—শুধু ঘরে না, ভবিষ্যতেও।”
এক অভিভাবক বলেন, “বাচ্চার পরীক্ষা, অথচ পড়ার পরিবেশ নেই—এটা খুব কষ্টের।”
অন্যদিকে, লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গরমে ফ্যান না চলায় কষ্ট বাড়ছে, পানির পাম্প বন্ধ থাকায় অনেক এলাকায় পানি সংকটও দেখা দিচ্ছে।
এক গৃহিণী জানান, “দিনে রান্না করতে পারি না, রাতে ঘুমাতে পারি না—এই লোডশেডিংয়ে জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে গেছে।”
ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। বিশেষ করে ছোট দোকান, ফ্রিজভিত্তিক ব্যবসা ও অনলাইন নির্ভর কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ীর আয় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে জানা গেছে।
এক দোকানি বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে দোকান চালানো যায় না, আবার জেনারেটর চালালেও লাভ থাকে না।”
এছাড়া সাভারের শিল্পাঞ্চলে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতি ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করছেন বলে দাবি করেছেন।
এদিকে, ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী লোডশেডিং চালু, এসএসসি পরীক্ষার সময় বিশেষ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
সাভারের বাসিন্দাদের মতে, লোডশেডিং এখন শুধু সাময়িক অসুবিধা নয়—এটি মানুষের স্বাভাবিক জীবন, শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সময়টা হওয়া উচিত ছিল প্রস্তুতির আলোয় ভরা, কিন্তু বাস্তবতা তাদের ঠেলে দিচ্ছে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।