জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাবে সাভারসহ সারাদেশে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৩ এপ্রিল ২০২৬ থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ যাত্রীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রকাশিত নতুন ভাড়া তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ১১ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে দূরপাল্লার রুটে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাভার ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার আওতাভুক্ত হওয়ায় এখানেও মহানগরের ভাড়ার হার কার্যকর হয়েছে। ফলে সাভার থেকে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে যাতায়াতে ভাড়া বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সাভার থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত আনুমানিক ২০ কিলোমিটার দূরত্বে নতুন ভাড়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ টাকা ৬০ পয়সা। যদিও যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও বেশি আদায় করা হচ্ছে।
এদিকে, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সরকার জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। এতে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকায় উন্নীত করা হয়। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
ভাড়া বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, নির্ধারিত স্টপেজে বাস না থামানো এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মতো সমস্যা আগের মতোই রয়ে গেছে। অর্থাৎ ভাড়া বাড়লেও সেবার মানে দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি।
এছাড়া অনেক পরিবহনে এখনো নতুন ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে চালক ও সহকারীরা সুযোগ নিয়ে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদারকি জোরদারের কথা বলছে, মাঠপর্যায়ে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাভারের সাধারণ মানুষ একাধিক সংকটের মুখে পড়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে এবং জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ভাড়া সমন্বয় একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হলেও এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও কঠোর মনিটরিং জরুরি। অন্যথায় নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করা সম্ভব হবে না এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত ভাড়া নিশ্চিত করা, ভাড়ার তালিকা বাধ্যতামূলকভাবে প্রদর্শন এবং সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণই এখন সময়ের দাবি।

