সম্প্রতি এক আল্ট্রাসনোগ্রামে ১১ বছরের এক শিশুকন্যার যে ভিডিওটি দেখা গেল, তা দেখে স্তব্ধ হয়ে যেতে হয়। পিতৃহীন এই এতিম মেয়েটি তার বৃদ্ধা নানীর কাছে বড় হচ্ছে। মা দিনরাত পরিশ্রম করেন একটি গার্মেন্টসে, যেন মেয়ের সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ গড়তে পারেন। ভালো মানুষ হবে, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা পাবে, এই আশায় মা মেয়েটিকে একটি মহিলা মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু কে জানত, সেখানেই ওৎ পেতে আছে এক পিশাচ?
মাদ্রাসার বড় হুজুর, যিনি নিজে বিবাহিত এবং পাঁচ মাস বয়সী এক পুত্রসন্তানের জনক, তার লালসার শিকার হতে হলো এই অবোধ শিশুটিকে। আজ যখন মেয়েটির পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আমার মনে বারবার একটিই প্রশ্ন জাগছে, এর দায়ভার আসলে কার?
যে মেয়েটির জীবনে এখনো প্রথম মাসিকই শুরু হয়নি, প্রথম ওভুলেশনেই তাকে এই নিষ্ঠুর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো। সে তো নিজেই একজন শিশু! তার শারীরিক যন্ত্রণার কথা সে প্রকাশ করেছে এভাবে "পেটটা ভারি লাগে আর ভেতরে কী যেন নড়ে..."।
ভাবতে বুক ফেটে যায়, যার হাতে এখনো পুতুল থাকার কথা, তাকে আজ কেন নিজের শরীরের ভেতরে আরেকটা শিশুর ভার বইতে হচ্ছে? আমরা কোন অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যে, শিক্ষকের মতো পবিত্র স্থানেও আমাদের সন্তানরা নিরাপদ নয়?
অপরাধীর কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত হোক।