নেত্রকোনার মদন উপজেলায় শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষনের পর অন্তঃস্বত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর(৩০)। তবে র্যাবের ছায়াতদন্তে অবশেষে ধরা পড়ে এই ধর্ষক। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের স্বস্থি ফিরেছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে সোয়া ১২টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর বাইপাস র্যাব-১৪ এর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে এদিন ভোররাতে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার হয় বলে জানান তিনি।
র্যাব অধিনায়ক আরো জানান, ঘটনার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে চলে যায়। তবে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারিতে অবশেষে সে র্যাবের জালে আটক হয়। ইতিমধ্যে তাকে ঘটনার সম্পৃক্ততার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তা ইশতিয়াক, নাজমুলসহ ময়মনসিংহে কর্মকর্তা প্রিন্ট, ইলেকট্রনিকস ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর মদন উপজেলার হযরত ফাতেমা তুজ জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। পাশাপাশি ভিকটিম শিশুটি ওই মাদ্রাসার ছাত্রী। ঘটনার সময় শিশুটি মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের বারান্দা ঝাড়ু দিচ্ছিল। এ সময় শিশুটিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষন করে অভিযুক্ত শিক্ষক।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি- আমি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। ডিএনএ পরীক্ষায় এর প্রমাণ মিলবে।
ইতিমধ্যে গ্রেফতার হওয়ার খবর পাওয়ার পর আমানুল্লাহ'র বিরুদ্ধে আরো বেশ ক'জন শিক্ষার্থীর সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা স্থানীয় এলাকাবাসী মিমাংসা করে দিয়েছে শালিসি'র মাধ্যমে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চেয়েছেন।