তাইওয়ানে হঠাৎ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত এ অঞ্চলের রাজধানী তাইপেতে হাজার হাজার বাসিন্দা সড়কে বিক্ষোভ করেছেন। তারা প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর সরকারি পরিকল্পনার সমর্থনে রাজপথে নেমেছেন।
শনিবার (২৩ মে) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট লাই চিং তে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বাজেট আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পার্লামেন্ট মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ অনুমোদন দেওয়ার পর এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। লাই চিং অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের পক্ষে ছিলেন। এতে চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বাড়ানো, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনা এবং দেশীয়ভাবে তৈরি ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের জন্য অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা ছিল। স্বায়ত্তশাসিত এ দ্বীপকে চীন নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে।
তবে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনধারী বিরোধী দলগুলো এ মাসে বাজেট আটকে দেয়। তাদের দাবি, সরকারের প্রস্তাব অস্পষ্ট ছিল এবং এতে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তারা আরও অভিযোগ করে, বাজেটে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কেনার জন্যই অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কয়েকটি মানবাধিকার ও তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থি সংগঠন এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। এতে অংশগ্রহণকারীরা পতাকা হাতে নিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির পক্ষে স্লোগান দেন।
আরও দুই মাস বাড়ছে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ
তাইওয়ান স্টেটবিল্ডিং পার্টির চেয়ারম্যান ওয়াং সিং হুয়ান বলেন, প্রকৃত শান্তির জন্য জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রয়োজন। আমাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করলেই তাইওয়ানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
৩৪ বছর বয়সী সিভিল ইঞ্জিনিয়ার অ্যাঞ্জেলা ইয়েন বলেন, চীনের সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করতে হবে। চীন ও তাইওয়ান দুটি ভিন্ন দেশ।
শনিবার দক্ষিণ তাইওয়ানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সবচেয়ে বড় বিরোধী দল কুওমিনতাংয়ের চেয়ারপারসন চেং লি উন বলেন, কেউই চীনের সঙ্গে যুদ্ধ দেখতে চায় না। তাইওয়ানের অর্থের অভাব নেই, কিন্তু তা বেপরোয়াভাবে খরচ করা উচিত নয়।