সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) সাম্প্রতিক সময়ে র্যাগিং, যৌন নিপীড়ন ও দফায় দফায় সহিংসতার ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো আর্থিক জরিমানা ও প্রশাসনিক চাপের মুখে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ফলে বিদ্যাপীঠটির স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ঘটনার মূল প্রেক্ষাপট ও প্রধান অভিযোগসমূহ:
• যৌন নিপীড়ন ও র্যাগিং: ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা এবং সমসাময়িক সময়ে র্যাগিংয়ের একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
• আন্দোলনকারীদের জরিমানা: ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে 'অশালীন ভাষা' ব্যবহারের অজুহাতে এক নারী শিক্ষার্থীসহ ৪ জনকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করেছে প্রশাসন। তবে কোন বিধির অধীনে এই শাস্তি, তা নোটিশে স্পষ্ট করা হয়নি।
• প্রশাসনিক ভবনের সামনে হামলা: গত ৪ মে জরিমানার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতে গিয়ে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হওয়ার পর হামলার শিকার হন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ক্যান্টিন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তর।
• ভুক্তভোগীর নিরাপত্তাহীনতা: সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী জামিনে থাকা আসামিদের কাছ থেকে ক্রমাগত হুমকি ও সম্প্রতি নতুন করে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
আন্দোলনকারীদের কণ্ঠরোধ ও হামলার অভিযোগ:
ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আন্দোলনকারীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে। জরিমানা পাওয়া এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, আন্দোলনclickable চলাকালীন "বাকচাতুর্য ঠিক ছিল না"—এমন অস্পষ্ট অভিযোগে তাদের ওপর অন্যায়ভাবে আর্থিক জরিমানা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ছাত্র সংসদ নেতা মনোয়ার হোসেন অন্তরের ওপর হামলার ঘটনায় 'অন্টার দেওয়ান' নামে এক ব্যক্তির ইন্ধন এবং ধর্ষণ মামলার আসামিদের ঘনিষ্ঠদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রক্টরের উপস্থিতিতেই এই মারধরের ঘটনা ঘটেছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভুক্তভোগী ও ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি:
ক্যাম্পাসের এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতেও, যেখানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, মূল অপরাধীরা জামিনে এসে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে লাগাতার হুমকি দিচ্ছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
"এই ক্যাম্পাসে আসার পর থেকে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও আমাকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না। আমি এর সুষ্ঠু প্রতিকার চাই।"
কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও দায় এড়ানোর চেষ্টা:
সার্বিক বিষয়ে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন ক্যামেরার সামনে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে মুঠোফোনে তিনি বিষয়টির দায় ট্রাস্টি বোর্ডের ওপর চাপিয়ে বলেন, "শিক্ষার্থীরা ট্রাস্টি ও প্রশাসনকে গালিগালাজ করেছে। এটি ট্রাস্টি বোর্ড, সিন্ডিকেট সদস্য ও শৃঙ্খলা কমিটির যৌথ সিদ্ধান্ত।"
প্রশাসনের এমন উদাসীন ভূমিকা ও শীর্ষ নেতৃত্বের নীরবতায় ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস কবে নাগাদ নিরাপদ হবে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।