সংবাদমাধ্যমের ইতিবাচক ও মানবিক ভূমিকার কারণে অবশেষে অবসান ঘটল একটি পরিবারের নিখোঁজ স্বজনের আকুলতা। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর হাসপাতালে মারা যাওয়া সেই অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধের পরিচয় মিলেছে। গত ৮ই জুন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে নিহতের পরিবার তার ছবি ও শারীরিক বিবরণ দেখে পরিচয় শনাক্ত করে যোগাযোগ করেছেন।
নিহত ওই বৃদ্ধের নাম মোঃ মাজেদ আলী (৬৫)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার ৬ নম্বর গোমস্তাপুর ইউনিয়নের বলিয়া এলাকার বাসিন্দা। পরিবারে তার তিন ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত মাজেদ আলী দীর্ঘদিন ধরে কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় (মাথার সমস্যা) ভুগছিলেন এবং জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। গত আনুমানিক ৬-৭ দিন আগে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না। অবশেষে গতকাল (৮ই জুন) গণমাধ্যমে তার মৃত্যুর সংবাদ, পত্রিকায় নিউজ দেখে আমরা নিশ্চিত হই যে এটি আমার বাবার লাশ।
জীর্ণ-শীর্ণ শারীরিক গঠন ও পকেটে থাকা ভিক্ষার খুচরো টাকার বিবরণ দেখে বড় ছেলে মোঃ ফারজেন আলী নিশ্চিত হন যে এটিই তার নিখোঁজ বাবা। এরপরই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীর সাথে যোগাযোগ করেন।
নিহতের বড় ছেলে মোঃ ফারজেন আলী আবেগময় কণ্ঠে জানান
বাবা মানসিক সমস্যার কারণে প্রায়ই বাড়ি থেকে বাইরে চলে যেতেন। এবার ৬-৭ দিন ধরে নিখোঁজ থাকায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। গণমাধ্যমে আসা নিউজের মাধ্যমে জানতে পারি বাবার লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আছে। আমরা আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গোদাগাড়ী থানায় এসেছি।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে ভোরে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সুলতানগঞ্জ বাজারের পাশে এক বৃদ্ধকে রাস্তার ধারে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুস সাত্তার তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। সে সময় তার পরিচয় শনাক্ত করার মতো কোনো কাগজপত্র না পাওয়ায় এবং পকেটে ৩৬০ টাকার কয়েন ও নোট থাকায় তাকে ভিক্ষুক বা ভবঘুরে ধারণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশ একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করে লাশটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
গোদাগাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, গণমাধ্যমের সংবাদ দেখে নিহতের পরিবার পরিচয় শনাক্ত করে থানায় যোগাযোগ করেছে। আজ সকালে পরিবারের লোকজন থানায় আসার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও আইডেন্টিফিকেশন শেষে লাশটি আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।