ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন কাকনী ইউনিয়নের দাদরা গ্রামের ইন্দু বাবু আর বিধু বাবুর ঐতিহাসিক বাড়িটি অযত্নে অবহেলায় জৌলুস হারিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে!
বাড়িটির কাছেই রয়েছে তারাকান্দা উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত একমাত্র বধ্যভূমি। পাশ দিয়ে চলে গেছে একসময়ের প্রমত্তা বর্তমানে মরা রাংসা নদী। এ নদীর তীরে আলিশান বাড়িটি আজ কেবলই স্মৃতি!
উল্লেখ্য যে, বৃটিশ আমলের তৈরি এই বাড়িতে এক সময় সান সৈকতের কমতি ছিল না। শিল্পকলা আর ধর্মীয় নানান আয়োজনে উৎসবমুখর হয়ে থাকতো বাড়ির আঙ্গিনা। কিন্তু ৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাজাকার আলবদরদের ভয়ে স্থাপনা গুলো রেখে ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়ার সময় যুদ্ধে নিহত হন বা সেখানে চলে গিয়ে নতুন করে জীবন যাপন করেন, তা আজও বিস্তারিত ভাবে কেউ বলতে পারেন না। লোকমুখে শুনা যায় বহু সম্পদ ও সম্পত্তির মালিক ছিলেন ইন্দু বাবু আর বিধুবাবুদের। পরবর্তী সময়ে এ বাড়ির ইতিহাস এমন ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়ে গেল সরকারের লিজ ব্যবস্থাপনার কারণে। সরকারি সম্পত্তি হওয়ার কারণে লীজ গ্রহিতাগণ চাইলেও মেরামত করতে পারেন না বলে জানিয়েছেন বর্তমানে বসবাসকারি বাসিন্দাগণ।
তবে কে বা কারা লীজ দাতা বা গ্রহিতা চুক্তির শর্ত কি কত টাকা বা কত বছরের জন্য, বাদ বাকি সম্পত্তির কি হাল তা কেউ সঠিকভাবে বলতে পারে নাই।
লোক মুখে শুনা যায়, বাবুদের একজন এলাকার সুনামধন্য ডাক্তার ও ফুটবল খেলায় পারদর্শী ছিলেন, অন্যজন সুনামধন্য ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন যাকে তৎকালীন সময়ে নাকি প্রেসিডেন্ট বলেও সম্মোধন করা হতো। তারা ছিলেন অতি মানবিক প্রকৃতির মানুষ। কারো মতে তারা নাকি ছিল অত্যাচারী জমিদার। এই বাড়ি ও মানবিক মানুষগুলোর কথা এখন বিস্মৃতির অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে। আর ওনাদের সহায়সম্পদ গুলো কি অবস্থায় আছে, বিক্রি করে গেছেন নাকি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে?নাকি বেদখল হয়ে গেছে? খোঁজ নিলে জানা যাবে। পরবর্তী সময়েও তাদের কোন বংশধর এ তল্লাটে আর আসে নাই।
একটি সূত্রে জানা যায়, পুঙ্গোয়াই গ্রামের হেলাল মাষ্টার ও তার চাচা নাকি এই বাড়ির লিজ নিছেন।
এই বাড়ির লাখ লাখ টাকার শতবর্ষী অনেক বড় বড় গাছ ছিল সব কেটে উজাড় করে ফেলছে।
বঙ্গবন্ধু কলেজ এর প্রয়াত শিক্ষক সুজিত বাবুর মুখে শুনে এ বাড়িতে ঘুরতে গিয়ে জানতে পারি এই বাড়ির কর্ণধারগণ এখন কলিকাতা থাকেন।তবে বাস্তবতা কতটুকু সঠিক তথ্য উপাত্ত নেই।
এই বড়িটি এই দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এখনো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি। তারাকান্দাবাসীর এই প্রত্ননিদর্শনটি রক্ষা করতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।