খামেনির শেষ বিদায় ও জানাজায় অংশ নিতে উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে ইরান যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের বিশেষ আমন্ত্রণে তিনি এই রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন।
৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ঐতিহাসিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে ৩ জুলাই স্পিকার তেহরানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং ৯ জুলাই দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত এই সফরকালীন সময়ে তিনি ইরানে অবস্থান করবেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় জমায়েত। দুই দেশের কয়েকটি শহরে বিভক্ত খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার চূড়ান্ত সরকারি সূচি নিচে দেওয়া হলো:
৩ ও ৪ জুলাই (তেহরান): ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হবে খামেনির মূল জানাজা এবং রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান।
৫ জুলাই (কোম): শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র শিক্ষানগরী 'কোমে' ঐতিহাসিক শোকমিছিল হবে।
৭ জুলাই (ইরাক সফর - কারবালা ও নাজাফ): খামেনির মরদেহ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে শিয়া সম্প্রদায়ের অত্যন্ত পবিত্র দুই শহর নাজাফ এবং কারবালায় (যেখানে ইমাম হোসেনের মাজার অবস্থিত) তাঁর স্মরণে বিশেষ রাষ্ট্রীয় শোকসভা ও বিশেষ শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। (উল্লেখ্য, কারবালায় তাঁর দাফন না হলেও সর্বোচ্চ সম্মানের অংশ হিসেবে মরদেহ সেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে)।
৮ ও ৯ জুলাই (মাশহাদ): খামেনির মরদেহ পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে তাঁর জন্মস্থান মাশহাদের পবিত্র ‘ইমাম রেজা মাজার’-এ চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন করা হবে।
ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই জানাজায় বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন স্বয়ং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এই শোকযাত্রায় শামিল হতে ইরাক, তুরস্ক, আজারবাইজান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি দল ও বিশ্বনেতারা ইতিমধ্যে ইরানে আসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া জানাজা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশ্বজুড়ে কয়েক কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করছে দেশটির প্রশাসন।