জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগে ১২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্তদের নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং ঘটনাটি তদন্তে প্রভোস্ট কমিটির কাছে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই দিবাগত রাতে ইতিহাস বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ‘ম্যানার শেখানো’ ও ‘ফরমাল পরিচয়’-এর নামে দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক ও শারীরিকভাবে হয়রানির অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এ সময় তাদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়েও অশালীন মন্তব্য করা হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্টের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় একই বিভাগের ১২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুর রাজ্জাক জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রক্টোরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। অভিযুক্তদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রভোস্ট কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টি-র্যাগিং সেলের সদস্যরা জানিয়েছেন, র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে। কোনো শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হয়রানির সুযোগ নেই বলেও তারা মন্তব্য করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।