ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বিসকা ইউনিয়নের নির্বাচনী বাজার সংলগ্ন নগুয়া কাঠবাড়ি এলাকায় জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে আকরামুল হক (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত আকরামুল হক নগুয়া গ্রামের মৃত উসমান গনির ছেলে।
১২ জুলাই (রবিবার) দুপুরে উপজেলার খিচা বাজার সংলগ্ন মনাটি বাজার যাওয়ার রাস্তায় আব্দুল জব্বারের বাড়ির পাশের এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি আকরামুল হক। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁর আপন ভাতিজা হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের লোকজন জানান, তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ'র (৬০)জানাজায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে খিচা বাজার থেকে মনাটি বাজারগামী সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন আকরামুল হকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা লাঠি, হাতুড়ি ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করে সরে যায়। ঘটনাস্থল হতে হামলার ব্যবহার করা দুটি মোটরসাইকেল ও দুটি হাতুড়ি একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের ভাতিজা গোলাম মোস্তফা (৩৫) বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলা চলমান রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে"।
নিহতের ভাতিজা আবু হুজাইফা বলেন," আমার চাচার খুনি হলো আল আমিন,তার ভাই আইনুল খালাতো ভাই ওয়াহিদুল্লাহ তার বাবা আঃ হাই আমার চাচা আকরামুল হককে নির্মিম ভাবে হত্যা করেছে। ইতিপূর্বেও সে লাথি দিয়ে আমার ভাই বৌ কে গর্ভপাত করেছে। সে একটি আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে। আঃ হাই আমার দাদার জমিজমা একাই সব গিলে খাচ্ছে।"
তারাকান্দা থানা পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে যায়, আলামত জব্দ করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, সম্ভবত মোটরসাইকেল দু'টির একটি নিহত আকরামুল হক এবং অপরটি অভিযুক্ত এনসিপির নেতা আল আমিন ব্যবহার করছিলেন।
স্বজনরা নগুয়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে আল আমিন (৩৮)কে এ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার সাথে তার পিতা ও ভগ্নিপতি সহ আরো অনেকই থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ফুলপুর সার্কেল) রাকিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে তারাকান্দা থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাশিদ বলেন, আকরামুল হক গ্রুপ এবং আল আমিন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষই থানায় একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের মরদেহ থানা পুলিশের হেফাজতে ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।




