ঘটনাটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় অবস্থিত যৌথবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, ক্যাম্প ও পাশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া পানির পাইপলাইন কেটে সেখানে কীটনাশক বা অন্য কোনো রাসায়নিক পদার্থ ঢেলে দেওয়া হয়। সকালে ডিউটিতে থাকা সদস্যরা পানিতে অস্বাভাবিক গন্ধ, অতিরিক্ত ফেনা ও ঘোলাটে ভাব দেখে সতর্ক হন।
কয়েকজন পুলিশ সদস্য পানি ব্যবহার করার পর চোখে জ্বালাপোড়া অনুভব করলে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পরে পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন একটি খালি রাসায়নিকের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি বিষ, কীটনাশক নাকি অন্য কোনো রাসায়নিক ছিল, তা নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশ ঘটনাটিকে নাশকতার আশঙ্কা হিসেবে তদন্ত করছে।
যৌথবাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে এমন নাশকতার অভিযোগ সত্যিই উদ্বেগজনক।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পের খাবার পানির লাইনে সন্দেহভাজন রাসায়নিক বা কীটনাশক মিশিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সৌভাগ্যবশত, দায়িত্বরত সদস্যরা সময়মতো পানির অস্বাভাবিক গন্ধ, ফেনা ও ঘোলাটে অবস্থা লক্ষ্য করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কয়েকজন সদস্য সামান্য অসুস্থ হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আরও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, একই পানির লাইন দিয়ে পাশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও পানি সরবরাহ করা হতো। অর্থাৎ বিষয়টি সময়মতো ধরা না পড়লে নিরীহ শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকিতে পড়তে পারত।
পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে, পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুরো ঘটনাকে সম্ভাব্য নাশকতা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এটি কীটনাশক, বিষ নাকি অন্য কোনো রাসায়নিক ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
এই ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।