কানের সোনার জিনিস নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গর্ভের শিশু নিহত ও ৪জন আহতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত মা নাছিমার (২৩) গর্ভে ৪মাসের অনাগত শিশু (ভ্রূণ) মারা যাওয়ায় ডেলিভারি বিভাগে অ্যাবরশন ও ডিএন্ডসি করানো হয়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,গত রবিবার (১৩সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়নের চর নলুয়া গ্রামের আলমগীর বেপারী বাড়িতে কানের সোনার জিনিস নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয় পার্শ্ববর্তী এলাকার আবদুল মাঝি ও আলমগীর বেপারীর সঙ্গে। পরে বিষয়টি নিয়ে আবদুল মাঝির স্ত্রী পান্না ও ছেলে রাকিব,হেলালসহ আরও কয়েকজন একত্রিত হয়ে আলমগীর বেপারীর স্ত্রী মাইনুর বেগম,মেয়ে বকুল ও জান্নাতকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। তাদের ডাক চিৎকারে বেপারির আরেক মেয়ে ৪মাসের গর্ভবতী নাছিমা তাদের উদ্ধার করতে আসলে রাকিব তার মা পান্নাসহ হেলাল নাছিমার পেটে ও পিঠে ক্রমাগত লাথি কিল ঘুষি দিয়ে গুরুতর আঘাত করে। নাছিমা অচেতন হয়ে গেলে তারা কৌশলে পালিয়ে যায় বলে ভুক্তভোগী নাছিমা ও তার স্বামী বাচ্চু অভিযোগ করেন। বাচ্ছু বলেন আমি নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। খবর পেয়ে নাছিমাসহ আহতদের চরফ্যাশন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.মাকলুকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে নাছিমা চিকিৎসা নেয়। নাছিমা বলেন,ওদের লাথিঘুষির আঘাতে আমার পেটের ৪মাসের শিশু আঘাতপ্রাপ্ত হয়। চিকিৎসকরা আমাকে ও আমার সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আমার সন্তানকে বাঁচানো যায়নি। বুধবার দুপুরে আমার সন্তান ফেলে দেয়া হয়েছে বলে প্রসূতি নাছিমা কান্নায় ভেঙে পড়েন। চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (আরএমও) ডা.মাকলুকুর রহমান বলেন, আহত নাছিমা মারধরের শিকার হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। পরে থ্রেটেণ্ড অ্যাবরশন পাওয়ায় প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন রাখা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়া ও আল্ট্রাসনোর রিপোর্ট দেখে ইনকমপ্লিট অ্যাবরশন হওয়ায় প্রসূতি বিভাগ রোগীর ডাইলেশন এন্ড কিউরেটেজ (ডিএন্ডসি) করানো হয়েছে। পর্বর্তী চিকিৎসাসহ অবস্থার উন্নতি হলে রোগীকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে রাকিব ও আবদুল মাঝিকে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন বন্ধ পাওয়ায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
এ বিষয়ে দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইনচার্জ আহসান কবির বলেন,ঘটনা শুনেছি এখন কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছবি : ভুক্তভোগী নাছিমা বেগম (২৩) ও রোগীর ছাড়পত্র ডকুমেন্টস। আরও ডকুমেন্টস বক্তব্য রেকর্ড সংরক্ষিত। 




