মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ৫ বিঘা জমি প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তির কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রতারণার মাধ্যমে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই বড় ভাই রফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করার পর প্রাণভয়ে প্রতিবন্ধী রমজান আলী (৪০) ও তার ভাই শহীদ আলী নিরাপত্তাহীনতায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। ঘটনাটি উপজেলার দড়িকয়ড়া গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দড়িকয়রা গ্রামের আকিমুদ্দিনের স্ত্রী নুরজাহান বেগম ১৯৯৮ সালে মারা যান। আকিমুদ্দিনের তিন ছেলে ও চার মেয়ে। তাদের মধ্যে রমজান আলী জন্মের পর থেকেই প্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম ও কথাবার্তা বলতে পারতেন না। ছেলের ভবিষ্যৎ ভরণপোষণের কথা চিন্তা করে আকিমুদ্দিন জীবিত থাকা অবস্থায় রমজান আলীর নামে চার বিঘা জমি লিখে দেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
২০০৮ সালে আকিমুদ্দিন মারা যাওয়ার পর রমজানের দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন তার ভাই শহীদ আলী।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রমজান আলীকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বঙ্গাইগাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নেওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রতারণার মাধ্যমে তার বাবার ওয়ারিশদের জমিসহ মোট সাড়ে ৫ বিঘা জমি বড় ভাই রফিজ উদ্দিনের নামে দলিলে টিপসই নেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের।
পরবর্তীতে ওই জমি অন্যের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। এরপর শহীদ আলী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করেন। সালিশে রফিজ উদ্দিন জমি ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও পরবর্তীতে জমি ফেরত না দিয়ে নানা ধরনের টালবাহানা করতে থাকেন বলে অভিযোগ।
এ ঘটনায় ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি মানিকগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে রফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন শহীদ আলী। মামলার সূত্রে রফিজ উদ্দিন ১৭ দিন কারাগারে ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শহীদ আলী বলেন, মামলা করার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। প্রতিবন্ধী ভাই রমজান আলীকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিতে হচ্ছে। তিনি আদালতের মাধ্যমে তার ভাইয়ের জমি ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে রফিজ উদ্দিন বলেন, “আমাকে স্বেচ্ছায় জমি লিখে দিয়েছেন প্রতিবন্ধী রমজান আলী।”
গ্রামের মাতব্বর কোমর আলী বলেন, “রফিজ উদ্দিন তার প্রতিবন্ধী ভাই রমজান আলীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতারণামূলকভাবে জমি লিখে নেওয়ায় এলাকায় কয়েকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। সালিশে জমি ফেরত দেওয়ার কথা বললেও পরে তা ফেরত দেওয়া হয়নি।”
স্থানীয় মহিলা সদস্য রিনা বেগম বলেন, “প্রতিবন্ধী রমজান আলীর কাছ থেকে প্রতারণা করে জমি লিখে নেওয়ার বিষয়ে কয়েকবার সালিশ হয়েছে। কিন্তু এখনো জমি ফেরত দেওয়া হয়নি।”
উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিচুর রহমান বলেন, “রফিজ উদ্দিন তার প্রতিবন্ধী ভাই রমজান আলীর জমি সালিশ বৈঠকে ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করে পরে তা দেননি—এমনটা শুনেছি।”
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা চান আদালতের মাধ্যমে অসহায় প্রতিবন্ধী রমজান আলী তার প্রাপ্য জমি ফিরে পান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।