নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে প্রযুক্তিনির্ভর সতর্কতা ব্যবস্থা MUN Alert (Missing Urgent Notification) নিয়ে দেশে কার্যক্রম চলছে। নিখোঁজ শিশুর তথ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং অনুসন্ধানে সাধারণ নাগরিকদের সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
MUN Alert-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি Zero Missing Children Foundation-এর উদ্যোগ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে এবং শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জরুরি তথ্য প্রচারে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিখোঁজ শিশু সম্পর্কে তথ্য জমা দেওয়ার পাশাপাশি সক্রিয় কেস দেখার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদনে উদ্যোগটির সঙ্গে Zero Missing Children Platform-এর সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (CID) ও Amber Alert for Bangladesh-এর উদ্যোগে MUN Alert কার্যক্রম চালু হয়। এ ব্যবস্থার জন্য ১৩২১৯ টোল-ফ্রি হটলাইন চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি MUN Alert-এর ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও নিখোঁজ শিশুর তথ্য পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।
শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টাকে অনুসন্ধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে MUN Alert পুলিশের বিকল্প নয়; কোনো শিশু নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যদের দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিষয়টি জানানো প্রয়োজন।
MUN Alert-এর মাধ্যমে নিখোঁজ শিশুর ছবি, পরিচয় ও সর্বশেষ দেখা যাওয়ার তথ্য প্রকাশ করে তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়। প্ল্যাটফর্মটির ওয়েবসাইটে বর্তমানে বিভিন্ন জেলার নিখোঁজ শিশুদের একাধিক সক্রিয় কেসও তালিকাভুক্ত রয়েছে।
এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Meta-এর অংশীদারত্বও রয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাস থেকে Facebook, Messenger ও Instagram ব্যবহারকারীদের কাছে অবস্থানভিত্তিক নিখোঁজ শিশু সতর্কবার্তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা চালু হয়। এর একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ঢাকার মিরপুরে নয় বছর বয়সী এক শিশুকে উদ্ধারের ঘটনা উল্লেখ করেছে The Daily Star। প্রতিবেদনে বলা হয়, Facebook-এর মাধ্যমে পাওয়া সতর্কবার্তা দেখে স্থানীয় এক ফার্মেসিকর্মী শিশুটিকে শনাক্ত করেন এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
MUN Alert-এর ওয়েবসাইটে নিখোঁজ শিশু রিপোর্ট করার পাশাপাশি খুঁজে পাওয়া শিশুদের তথ্য জানানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির তথ্য অনুযায়ী, রিপোর্টে শিশুর ছবি, বয়স, সর্বশেষ দেখা স্থানসহ প্রয়োজনীয় বিবরণ দেওয়া যায় এবং তথ্য প্রকাশের আগে তা পর্যালোচনার ব্যবস্থাও রয়েছে।
নিখোঁজ শিশুর সন্ধানে প্রযুক্তির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সতর্কবার্তায় পরিচিত বা সন্দেহভাজন কোনো শিশুকে দেখা গেলে নিজের উদ্যোগে পরিস্থিতি মোকাবিলা না করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বা কর্তৃপক্ষকে তথ্য দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে অনুসন্ধান কার্যক্রমে নাগরিকদের অংশগ্রহণ যেমন বাড়তে পারে, তেমনি শিশুর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাও রক্ষা করা সম্ভব।
শিশু নিখোঁজের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রযুক্তি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে। সেই জায়গায় MUN Alert-এর কার্যক্রম দেশে নিখোঁজ শিশু সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রযুক্তিনির্ভর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে দ্রুত রিপোর্টিং, তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ এবং জনসম্পৃক্ততার ওপর।
