
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাশের তিনটি শ্রমিক কলোনির অন্তত ৫০টি কক্ষ পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় আশপাশের একাধিক বহুতল আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত সোয়া ৯টার দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের জামগড়া তেঁতুলতলা এলাকার একটি ঝুটের গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন আশপাশের গোডাউন, শ্রমিক কলোনি ও আবাসিক ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।
▪️দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, জামগড়া তেঁতুলতলা এলাকায় গোডাউনে আগুন দেখতে পেয়ে তাঁরা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। আগুনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত পণ্য সংরক্ষণের গোডাউনেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
একপর্যায়ে আগুন পাশের তিনটি শ্রমিক কলোনিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৫০টি কক্ষ পুড়ে যায়। পাশাপাশি আশপাশের একাধিক বহুতল আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
▪️আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ ইউনিট
খবর পেয়ে জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটও উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে যোগ দেয়।
জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ফায়ার ফাইটার মো. মামুন হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ৯টা ৩৯ মিনিটে আগুনের খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। তবে সড়কে যানজটের কারণে সেখানে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, পাঁচটি ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২টি ঝুটের গোডাউন পুড়ে গেছে। পাশাপাশি থাকা সেমিপাকা বসতবাড়ির অন্তত ৫০টি কক্ষও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
▪️গোডাউনের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনে ভিন্নতা
ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রাথমিক ও পরবর্তী প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত গোডাউনের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কোনো প্রতিবেদনে ১০টি, আবার কোনো প্রতিবেদনে ১৯টি গোডাউনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার উদ্ধৃত বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রায় ১২টি গোডাউন পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।