
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। হরগজ ইউনিয়নে ইউপি সদস্য আব্দুল আউয়ালের স্ত্রী মালা আক্তার ডিলার হিসেবে মনোনীত হওয়ায় তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। অন্যদিকে, ডিলারশিপ না পাওয়ার ক্ষোভে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দরগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর মানিকগঞ্জ জেলার সাত উপজেলায় নতুন সার ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা প্রকাশের পর সাটুরিয়ার কয়েকটি ইউনিয়নে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
▪️হরগজ ইউনিয়নে নিয়োগ নিয়ে আলোচনা
হরগজ ইউনিয়নে মালা আক্তারের ডিলার হিসেবে মনোনয়নের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর স্বামী ইউপি সদস্য আব্দুল আউয়ালের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তিনি অতীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল আউয়াল জানান, তিনি হরগজ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টানা দুইবারের সদস্য হলেও আওয়ামী লীগে তাঁর কোনো পদ ছিল না। ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সার ডিলারশিপের আবেদন প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, প্রথমে তাঁর ভাই নিজের স্ত্রীর নামে আবেদন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু ভাইয়ের স্ত্রী সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় পরে তাঁর স্ত্রী মালা আক্তারের নামে আবেদন করা হয়।
▪️ডিলারশিপ না পেয়ে যুবদল নেতার পদত্যাগের ঘোষণা
অন্যদিকে, সাটুরিয়ার দরগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন গত ১০ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন।
সাদ্দামের দাবি, তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বাবা ও পরিবারের সদস্যদের প্রায় ৪০ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা রয়েছে। অতীতেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁদের পরিবার ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। এবার নতুন করে আবেদন করেও ডিলারশিপ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির বিষয়ে তাঁর ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি।
▪️নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনের বক্তব্য
সার ডিলার নিয়োগের বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম জানান, আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে আবেদনকারীর তালিকা জেলা কমিটির কাছে পাঠায়। পরে জেলা কমিটির মাধ্যমে তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য বিবেচিত আবেদনকারীদের মনোনীত করে।
ইউএনওর বক্তব্য অনুযায়ী, আবেদনকারীর নারী-পুরুষ পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক পদ-পদবি বিবেচনা করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
▪️স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি
কৃষকদের কাছে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, আবেদন যাচাই এবং নির্বাচনের মানদণ্ড গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা থাকে।
তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ কিংবা ডিলারশিপ না পাওয়ার কারণে কোনো আবেদনকারী বঞ্চিত হয়েছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট নথি, নিয়োগের শর্ত এবং আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে: সাটুরিয়ায় নতুন সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য নিয়োগসংক্রান্ত মানদণ্ড ও প্রয়োজনীয় তথ্য কি প্রকাশ করা হবে?
জনস্বার্থে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।