
আন্তর্জাতিক কিশোর ফুটবল প্রতিযোগিতা ‘লা লিগা ইয়ুথ টুর্নামেন্ট ২০২৫’-এ অংশ নিতে যাচ্ছেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী কলেজপাড়া ফুটবল একাডেমির তরুণ ফুটবলার অনন্ত দাস (১৬)। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টে তিনি বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে জাফরানী স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করবেন।গ্যাপ পদ্ধতিতে আম চাষ করে প্রথমবার বিদেশে রপ্তানি হাকিমপুরের নিরঞ্জনের
‘হ্যালো সুপারস্টারস’-এর তত্ত্বাবধানে সারাদেশের প্রতিভাবান কিশোরদের মধ্য থেকে বাছাই করে গঠিত হয়েছে এই জাতীয় দল। অনন্ত দাস কুড়িগ্রামের রাজাহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের আচার্য গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা সন্তোষ দাস একজন মাছ ব্যবসায়ী। দুই ভাইবোনের মধ্যে অনন্ত ছোট এবং বর্তমানে তিনি পাঙ্গা রানী লক্ষী প্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন।
স্বপ্নপূরণের পথে প্রথম ধাপ
বাসস-এর সঙ্গে একান্ত আলাপে অনন্ত বলেন, “ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি গভীর টান ছিল। আজ লা লিগা ইয়ুথ টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি, এটা আমার স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ।”
এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বড়বাড়ী কলেজপাড়া ফুটবল একাডেমি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অনন্ত বলেন, “এই একাডেমির উৎসাহ ও অনুপ্রেরণাতেই আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেয়েছি। বিশেষ করে একাডেমির পরিচালক ও হেড কোচ এবিএম ফিরোজ সিদ্দিকী আপেল স্যারের অবদান কখনও ভুলব না।”
মায়ের অনুপ্রেরণায় এগিয়ে চলা
সংসারের আর্থিক সংকটের মধ্যেও অনন্তের পাশে ছিলেন তাঁর মা। “আমার মা আমার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। তিনি সবসময় আমাকে সাহস ও সমর্থন দিয়েছেন,” বলেন অনন্ত।
পিতা সন্তোষ দাস বলেন, “ছোটবেলা থেকেই ছেলের খেলাধুলার প্রতি ঝোঁক ছিল। আজ তার এই অর্জনে আমরা গর্বিত। এলাকাবাসী তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে, মিষ্টিমুখ করাচ্ছে। তার জন্য দোয়া চাই যেন সে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।”
মা অর্চনা দাস বলেন, “ভগবানের ইচ্ছায় আমার ছেলে তার লক্ষ্যে পৌঁছাক—এই আমার প্রার্থনা। অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের পর আজ সে এই জায়গায় এসেছে। আমি চাই সে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করুক।”
একাডেমির গর্ব অনন্ত
বড়বাড়ী কলেজপাড়া ফুটবল একাডেমির পরিচালক ও হেড কোচ এবিএম ফিরোজ সিদ্দিকী আপেল বলেন, “অনন্ত অত্যন্ত প্রতিভাবান ও পরিশ্রমী খেলোয়াড়। আমরা গর্বিত যে, আমাদের একাডেমি থেকে সে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, সে একদিন জাতীয় দলে খেলবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন আমাদের একাডেমির খেলোয়াড়রা শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে কঠোর পরিশ্রম করে। তাদের সেই ঘামে মিশে থাকে স্বপ্ন ও সম্ভাবনার গল্প।”
কঠোর বাছাইপ্রক্রিয়া পার করে জাতীয় দলে
গত ১৬ জুন বিকেএসপির অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাকে আয়োজিত মাঠ পর্যায়ের বাছাইয়ে অংশ নেন অনন্ত। অনলাইন বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত এই ক্যাম্পে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিকেএসপির সাবেক মহাপরিচালক লে. কর্নেল (অব.) এমএ লতিফ খান, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক কায়সার হামিদ, মামুনুল ইসলাম ও জাহিদ হাসান এমিলি। এখান থেকেই ১৬ সদস্যের দল চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়।
আগামী ১১ থেকে ১৩ জুলাই মালয়েশিয়ার শ্যামবিল পার্কে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তিন ধাপে মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডে চলবে এবারের লা লিগা ইয়ুথ টুর্নামেন্ট। গত বছর টুর্নামেন্টটি ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
অনন্ত ছাড়াও বড়বাড়ী কলেজপাড়া একাডেমির আরও তিনজন খেলোয়াড় এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। অনন্তের বিশ্বাস, এই যাত্রা তার স্বপ্নপূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি: অধ্যাপক এহসানুল কবির
“একদিন হয়তো সত্যিকার অর্থেই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামব”—আশাবাদ ব্যক্ত করেন অনন্ত দাস।
Leave a Reply