
ইতিহাসের এক গর্বিত অধ্যায় লিখল বাংলাদেশ। নেদারল্যান্ডসের মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রটারডামের পর্দায় একসাথে ঝলমল করছে বাংলাদেশের ৩টি সিনেমা—যা শুধু অংশগ্রহণ নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে দেশের চলচ্চিত্রের শক্ত অবস্থানের জানান দিল। ২৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, আর এই সময়জুড়ে রটারডামের হৃদয়ে বাংলাদেশের গল্প, আবেগ ও স্বপ্ন বহন করছেন দেশের চার প্রখ্যাত তারকা, যারা সরাসরি উপস্থিত থেকে তুলে ধরছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব।
এবারের রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তিনটি ভিন্ন বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের তিন সিনেমা, ‘রইদ’, ‘মাস্টার’ ও ‘দেলুপি’। এমন বৈশ্বিক কোনো উৎসবে এই প্রথম একসঙ্গে তিনটি বাংলাদেশি সিনেমা নির্বাচিত হওয়া দেশের চলচ্চিত্রের জন্য উল্লেখযোগ্য একটি অর্জন।
উৎসবের মূল আকর্ষণ টাইগার কম্পিটিশন বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমা ‘রইদ’। এতে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি। সিনেমাটির প্রিমিয়ার উপলক্ষে নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে পুরো টিম এখন রটারডামে অবস্থান করছে।
রটারডাম থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করে তুষি লিখেছেন, হিম হয়ে যাওয়া শীতল শহরে, ‘রইদ’ উঠেছে রটারডামে।
অন্যদিকে উৎসবের বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশন বিভাগে লড়ছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত রাজনৈতিক থ্রিলার সিনেমা ‘মাস্টার’। সিনেমাটির টিমের সঙ্গে উৎসবে যোগ দিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
উৎসব চলাকালে প্রতিদিনই নিজের অভিজ্ঞতা ও নানা মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন বাঁধন। বিভিন্ন ছবিতে তার সঙ্গে দেখা গেছে নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতসহ অভিনয়শিল্পী নাসিরউদ্দিন খান ও জাকিয়া বারী মমকে।
এদিকে, উৎসবের ব্রাইট ফিউচার বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম পরিচালিত সিনেমা ‘দেলুপি’। নতুন ধারার ও স্বাধীন চলচ্চিত্রকে তুলে ধরার এই বিভাগে ‘দেলুপি’ এর নির্বাচন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীন সিনেমার সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
রটারডামের মতো আন্তর্জাতিক মর্যাদাসম্পন্ন উৎসবে একসঙ্গে ৩টি বাংলাদেশি সিনেমার জায়গা করে নেওয়া শুধু একটি অর্জন নয়, বরং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ক্রমাগত অগ্রযাত্রার স্পষ্ট ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে স্থানীয় গল্প ও নির্মাণশৈলী এখন আর সীমাবদ্ধ নয় দেশের গণ্ডিতে—বরং বিশ্বদর্শকের কাছেও তা গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। এমন সাফল্য নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সিনেমার সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করবে বলে মনে করছেন করেছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
Leave a Reply