
সমুদ্রতলের প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করার স্বপ্ন ছিল তাঁর। এক শহর থেকে আরেক শহরে বাবার করপোরেট চাকরির বদলির সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো শৈশব—চেন্নাই, মুম্বাই, কলকাতা, কাঠমান্ডু, রাজস্থান, গুজরাট। স্থায়ী কোনো ঠিকানা নয়, বরং চলমান জীবনই ছিল স্বাভাবিক। সেই মেয়েটিই একসময় দক্ষিণী চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ, চার ভাষার নায়িকা। আর এখন? যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি গেমিং প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বিভাগের পরিচালক। তিনি দীক্ষা শেঠি।
আকস্মিক আবির্ভাব
অভিনেত্রী হওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না দীক্ষার। মুম্বাইয়ে কলেজে উঠেই ঠিক করেছিলেন, সামুদ্রিক প্রত্নতত্ত্ব নিয়েই এগোবেন। কিন্তু প্রথম বর্ষে এক অনুষ্ঠানে নজরে পড়েন এক ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতার প্রতিনিধির। প্রস্তাব আসে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার।
সেখানে সেরা দশে জায়গা করে নেওয়া এবং ‘ফ্রেশ ফেস’ খেতাব জেতার পর ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। হায়দরাবাদে একটি মডেলিং অ্যাসাইনমেন্টের সময় পরিচালক কৃষের চোখে পড়েন তিনি। সেই সূত্রেই সুযোগ মেলে ২০১০ সালের সমালোচক প্রশংসিত তেলুগু ছবি ‘ভেদাম’-এ।
ছবিটিতে আল্লু অর্জুনের বিপরীতে পূজার চরিত্রে অভিনয় করেন দীক্ষা। প্রায় ৭০ জনের বেশি অভিনেত্রীকে বাদ দিয়ে তাঁকে নেওয়া হয়েছিল। প্রথম ছবিতেই দৃশ্যমান আত্মপ্রকাশ। সে বছর সন্তোষম ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসে সেরা নবাগত মুখের পুরস্কারও পান।
দীক্ষা শেঠ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
টানা সাফল্য, চার ভাষায় কাজ
‘ভেদাম’-এর পর কাজ আসে দ্রুত। ‘মিরাপাকি’ বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়। একই বছর ‘ওয়ান্টেড’ ছবিতে প্রথমবার প্রধান নায়িকা হন। ২০১২ সালে একাধিক ছবি—‘নিপ্পু’, ‘রেবেল’ (যেখানে সহশিল্পী ছিলেন প্রভাস ও তামান্না ভাটিয়া)। তামিল ছবিতেও কাজ করেন বিক্রমের বিপরীতে।
হিন্দি ছবিতে অভিষেক ২০১৪ সালে ‘লেকার হাম দিওয়ানা দিল’-এ। তবে ছবিটি বক্স অফিসে সাড়া ফেলতে পারেনি। এরপর ধীরে ধীরে মূলধারার পর্দা থেকে সরে যেতে থাকেন দীক্ষা। ২০২১ সালে ওয়েব সিরিজ ‘সাত কদম’-এ দেখা গেলেও চলচ্চিত্রজগৎ থেকে কার্যত দূরেই ছিলেন।
১০ ছবিতে ৪৫ মিলিয়ন ডলার
নিজের লিংকডইন প্রোফাইলে দীক্ষা জানিয়েছেন, প্রায় এক দশকের ক্যারিয়ারে চার ভাষায় প্রধান চরিত্রে ১০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। সেগুলো ভারতে ৫০০ থেকে ১ হাজার পর্দায় এবং আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে ৮০-১০০ পর্দায় মুক্তি পেয়েছিল।
দীক্ষা শেঠি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
এই ১০ ছবির সম্মিলিত বক্স অফিস আয় ৪ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রসাধনী ব্র্যান্ডের সঙ্গে অংশীদারত্ব, এক মিলিয়নের বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনুসারী, ৪৫০টির বেশি টেলিভিশন ও রেডিও অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং ৩৫০টির বেশি সাক্ষাৎকার—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এক ব্যস্ত তারকা।
Leave a Reply