
বিয়ের আসর মানেই সাজসজ্জা, আলোক ঝলমলে মঞ্চ, অতিথিদের হাসি-আড্ডা আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরা পরিবেশ। কিন্তু মানিকগঞ্জে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্য। ফুলেল সাজসজ্জা কিংবা বিলাসী আয়োজন নয়—ব্যান্ডেজ বাঁধা শরীর, হাসপাতালের দেয়াল আর অসহনীয় যন্ত্রণার মাঝেই সম্পন্ন হলো এক অনন্য বিয়ের অনুষ্ঠান।
https://cutt.ly/PrZ2925R
গত বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে মানিকগঞ্জের আফরোজা বেগম জেনারেল হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমী এ বিয়ে।
https://cutt.ly/PrZ2925R
বর অভিজিৎ সাহা—স্থানীয় বাসিন্দা অরবিন্দ সাহার ছেলে। নির্ধারিত তারিখে তার বিয়ের কথা থাকলেও বিয়ের কয়েক দিন আগে ঢাকার ধামরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে দুই পরিবারই সিদ্ধান্ত নেয়, নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠান পেছানো হবে না। হাসপাতালের অনুমতি নিয়েই বিয়ের আয়োজন করা হয় হাসপাতাল কক্ষেই।
https://cutt.ly/PrZ2925R
ব্যক্তিগত কক্ষে সীমিত সাজসজ্জা, কাছের আত্মীয়স্বজন ও হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা। বিছানায় শায়িত অবস্থায় কনের হাত ধরেন অভিজিৎ। প্রচলিত আচার অনুযায়ী সব আয়োজনই সম্পন্ন হয়, তবে এক ব্যতিক্রম ছিল—‘সাত পাক’ বা সাতবার প্রদক্ষিণ। সাধারণত বর কনেকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করেন, কিন্তু এদিন হাসপাতালে শুয়ে থাকা অবস্থাতেই প্রতীকীভাবে সম্পন্ন হয় এ আচার।
https://cutt.ly/PrZ2925R
হাসপাতালের সরকারি ফেসবুক পেজে লাইভে দেখানো হয় এ বিরল দৃশ্য। হাজারো মানুষ অনলাইনে প্রত্যক্ষ করেন ভালোবাসার এ জয়যাত্রা।
https://cutt.ly/PrZ2925R
বরের বাবা অরবিন্দ সাহা আনন্দের সাথে বলেন—
“কখনও ভাবিনি হাসপাতালের ভেতর ছেলের বিয়ে হবে। কিন্তু তারিখ অনেক আগেই নির্ধারণ করা ছিল, তাই পরিবর্তন করতে চাইনি। এই দিনটি আমাদের জীবনের স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
https://cutt.ly/PrZ2925R
যে দিনটি দুর্ঘটনার কারণে দুঃখে ভরে উঠতে পারত, সেটিই রূপ নিলো ভালোবাসা, বিশ্বাস আর একতার প্রতীকে। মানিকগঞ্জের এ অনন্য বিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, যা মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসার শক্তির এক অমলিন ছাপ এঁকে দিয়েছে।
https://cutt.ly/PrZ2925R
এই ঘটনাই মনে করিয়ে দেয়—ভালোবাসার জন্য আলোকসজ্জা বা বিলাসী আয়োজন নয়, দরকার কেবল হৃদয়ের টান। হাসপাতালের দেয়ালের ভেতরেও ভালোবাসা গড়ে তুলতে পারে সবচেয়ে সুন্দর উৎসব।
Leave a Reply