মুক্তাগাছায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ৫ পুলিশ সহ আহত ১৫
নীহার বকুল : ময়মনসিংহ জেলা সংবাদদাতা
আপডেট টাইম :
রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
৭৯
বার পঠিত
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২ পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ৫ পুলিশ সহ উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়।
২৮ ফেব্রুয়ারী (শনিবার) ইফতারের আগে থেকে ২ পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ২পক্ষের লোকজন লাঠিসোঠা ও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ১০/১২ টি দোকান ভাংচুর করে। খবর পেয়ে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
উভয় পক্ষের ইট-পাটকেলের আঘাতে ৫ পুলিশ সদস্য সহ উভয় পক্ষের ১৫জন আহত হন। রাত সাড়ে ৮টায় মুক্তাগাছা থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, ২আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও র্যাব-১৪ ঘটনাস্থলে সাজোয়া যান নিয়ে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। পুলিশজানায়, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্ব্বোচ চেষ্টা করেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মুক্তাগাছা শহরের আটানী বাজারের ছোট মসজিদ মোড়ে শুক্রবার দুপুরে ভ্যানচালক ও ভটভটি চালকের মাঝে বাক বিতন্ডা হয়। পার্শ্ববর্তী দোকানের মালিক সোহেল ও খোকন তাদেরকে ছাড়িয়ে দেয়। পরে বিকাল
বেলা পাড়াটঙ্গী এলাকার লোকজন এসে খোকন ও সোহেলের ‘মনসুর স্টোর’ ও গোডাউন ভাঙচুর করে লুটপাট চালায়। এতে করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষ শনিবার বিকালে বৈঠকে বসে।
বৈঠকের এক পর্যায়ে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়। এ সময় পুলিশ উভয় পক্ষকেই শান্ত করতে সরিয়ে দেয়। ইফতারের পর তারাটি এলাকার প্রায় দুই শতাধিক লোকজন আবারও সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। পুলিশ হামলাকারীদের রুখতে সেখানে অবস্থান নিলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সৃষ্টি হয়। এ সময় ৫জন পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, মুক্তাগাছার তারাটি ও পাড়াটঙ্গী দুই এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাইন থেকে উত্তেজনা প্রশমিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ এনে আইন প্রয়োগ করার ফলে বিষয়টি কন্ট্রোলে চলে আসে। এ ধরনের ঘটনাকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেয়া হবে না। এর পেছনে কারো যদি ইন্ধন থাকে থাকে আমরা তাকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।
বর্তমানে আইন শৃখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে পরবর্তী কার্যক্রম কি হবে। দু’পক্ষের মাঝে সংঘর্ষে ৫জন পুলিশ আহত হয়েছে, তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে ৩টি টিম অবস্থান করছে। লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যাইনি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় এমপি মহোদয় বলেছেন,আইনের শাসনের বিষয়ে সে সম্পূর্ণ একমত। যেই জড়িত থাকুক তাকে প্রশ্রয় আশ্রয় দেবেন না, এ বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন।
মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশকে বলা হয়েছে। দোষী ব্যক্তি যেই দলের হোক তাদের গ্রেফতার করতে নির্দেশ দিয়েছি। স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে বলেছি তারা যেনো এলাকায় শান্তি আনতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহায়তা করে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিবেশ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে বলে জানান মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ।
Leave a Reply