1. muktanganpratidin@gmail.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন

কাদের জাকাত দেওয়া যাবে, আর কাদের জাকাত দেওয়া যাবে না

মুক্তাঙ্গঁন ডেক্স
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩ বার পঠিত
জেনে নিই, কাদের জাকাত দেওয়া যাবে, আর কাদের জাকাত দেওয়া যাবে না।
১. যে দরিদ্র ব্যক্তির কাছে অতি সামান্য মাল আছে, অথবা কিছুই নেই, এমনকি একদিনের খোরাকীও নেই এমন লোক শরীয়তের দৃষ্টিতে গরীব। তাকে জাকাত দেওয়া যাবে।
২. যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ অর্থাৎ সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, বাণিজ্যদ্রব্য ইত্যাদি নিসাব পরিমাণ আছে সে শরীয়তের দৃষ্টিতে ধনী। তাকে জাকাত দেওয়া যাবে না।
৩. অনুরূপভাবে যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাব পরিমাণ নেই, কিন্তু অন্য ধরনের সম্পদ যাতে জাকাত আসে না যেমন ঘরের আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র, জুতা, গার্হস্থ সামগ্রী ইত্যাদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত এবং নিসাব পরিমাণ আছে তাকেও জাকাত দেওয়া যাবে না। এই ব্যক্তির ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭১৫৬)
৩. যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদও নিসাব পরিমাণ নেই এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত অন্য ধরনের মাল-সামানাও নিসাব পরিমাণ নেই, এই ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়া যাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ১০৫৩৬)
৪. যে ব্যক্তি এমন ঋণগ্রস্থ যে, ঋণ পরিশোধ করার পর তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে না, তাকে জাকাত দেওয়া যাবে।
৫. কোনো ব্যক্তি নিজ বাড়িতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী, কিন্তু সফরে এসে অভাবে পড়ে গেছে বা মাল-সামান চুরি হয়ে গেছে, এমন ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়া যাবে। তবে এ ব্যক্তির জন্য শুধু প্রয়োজন পরিমাণ গ্রহণ করাই জায়েজ, এর বেশি নয়।
৬. জাকাতের টাকা এমন দরিদ্রকে দেওয়া উত্তম যে দ্বীনদার। দ্বীনদার নয় এমন লোক যদি জাকাতের উপযুক্ত হয় তাহলে তাকেও জাকাত দেওয়া যাবে। কিন্তু যদি প্রবল ধারণা হয় যে, জাকাতের টাকা দেওয়া হলে লোকটি সে টাকা গোনাহের কাজে ব্যয় করবে, তাহলে তাকে জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়।
৭. জাকাত শুধু মুসলমানদেরকেই দেওয়া যাবে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টা বা অন্য কোনো অমুসলিমকে জাকাত দেওয়া হলে জাকাত আদায় হবে না। তবে নফল দান-খায়রাত অমুসলিমকেও করা যায়। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭১৬৬,৭১৬৭, ৭১৭০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৬/৫১৬-৫১৭)
৮. জাকাতের টাকা জাকাতের হক্বদারদের নিকট পৌঁছে দিতে হবে। জাকাতের নির্ধারিত খাতে ব্যয় না করে অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হলে জাকাত আদায় হবে না। যেমন রাস্তা-ঘাট, পুল নির্মাণ করা, কুপ খনন করা, বিদ্যুৎ-পানি ইত্যাদির ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।
৯. জাকাতের টাকা দ্বারা মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ করা, ইসলাম প্রচার, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা দেওয়া, ওয়াজ মাহফিল করা, দ্বীনি বই-পুস্তক ছাপানো, ইসলামী মিডিয়া তথা রেডিও, টিভির চ্যানেল করা ইত্যাদিও জায়েজ নয়। মোটকথা, জাকাতের টাকা এর হক্বদারকেই দিতে হবে। অন্য কোনো ভালো খাতে ব্যয় করলেও জাকাত আদায় হবে না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৬৯৪৭,৬৯৪৮, ৭১৩৭,৭১৭০)
১০. জাকাত আদায় হওয়ার জন্য শর্ত হলো, উপযুক্ত ব্যক্তিকে মালিক বানিয়ে দেওয়া। যাতে সে নিজের খুশি মতো তার প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। এরূপ না করে যদি জাকাতদাতা নিজের খুশি মতো দরিদ্র লোকটির কোনো প্রয়োজনে টাকাটি খরচ করে যেমন, তার ঘর সংস্কার করে দিল, টয়লেট স্থাপন করে দিল কিংবা পানি বা বিদ্যুতের ব্যবস্থা করল, তাহলে জাকাত আদায় হবে না। (রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৭)
নিয়ম হলো, জাকাতের টাকা দরিদ্র ব্যক্তির মালিকানায় দিয়ে দেওয়া। এরপর যদি সে নিজের খুশি মতো এসব কাজেই ব্যয় করে, তাহলেও জাকাতদাতার জাকাত আদায় হয়ে যাবে।
১১. আত্মীয়-স্বজন যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়, তাহলে তাদেরকে জাকাত দেওয়াই উত্তম। ভাই, বোন, ভাতিজা, ভাগনে, চাচা, মামা, ফুফু, খালা এবং অন্যান্য আত্মীয়দেরকে জাকাত দেওয়া যাবে। তবে, দেওয়ার সময় জাকাতের উল্লেখ না করে মনে মনে জাকাতের নিয়ত করলেও জাকাত আদায় হয়ে যাবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে এটাই উত্তম। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭১৬০,৭১৬১,৭১৬৪,৭১৭১; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৬/৫৪২-৫৪৬)
১২. নিজ পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী, পরদাদা প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ যারা তার জন্মের উৎস, তাদেরকে নিজের জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়। এমনিভাবে নিজের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতিন এবং তাদের অধস্তনকে নিজ সম্পদের জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়। স্বামী এবং স্ত্রী একে অপরকে জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়।(রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৮)
১৩. বাড়ির কাজের ছেলে বা কাজের মেয়েকে জাকাত দেওয়া জায়েজ যদি তারা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়। তবে কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে জাকাতের অর্থ দিলে জাকাত আদায় হবে না। কেউ কেউ কাজের লোক রাখার সময় বলে, মাসে এত টাকা করে পাবে আর ঈদে একটা বড় অংক পাবে। এক্ষেত্রে ঈদের সময় দেওয়া টাকা জাকাত হিসাবে প্রদান করা যাবে না। সেটা তার পারিশ্রমিকের অংশ বলেই ধর্তব্য হবে।
১৪. কোনো লোককে জাকাতের উপযুক্ত মনে হওয়ায় তাকে জাকাত দেওয়া হলো, কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশ পেল যে, লোকটির নিসাব পরিমাণ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

Archives

Mar0 Posts
Apr0 Posts
May0 Posts
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Nov0 Posts
Dec0 Posts
Mar0 Posts
Apr0 Posts
May0 Posts
Jun0 Posts
Jul0 Posts
Aug0 Posts
Sep0 Posts
Oct0 Posts
Nov0 Posts
Dec0 Posts

Archives

Mar
Apr
May
Jun
Jul
Aug
Sep
Oct
Nov
Dec
Mar
Apr
May
Jun
Jul
Aug
Sep
Oct
Nov
Dec
All rights reserved © 2025
Design By Raytahost
HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com