
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড(আউটধার-শিমুলিয়া)এর ঈদগাহ মাঠের সংলগ্ন আজিজুলের বাড়ির সামনেআউটধার ও পাঁচ-কাহনিয়ার মাঝখানে খালের উপর কাঠের নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি বর্তমানে মৃত্যুফাঁদে পরিনত হয়েছে,যেকোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনায় পতিত হতে পারে স্কুল,কলেজ, মাদ্রাসাগামী ছোট ছোট শিশু ও বয়স্ক পথচারী।
সরে জমিনে পরিদর্শন করে ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় যে,আউটধার ও শিমুলিয়া গ্রামের শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা পর্যন্ত প্রতিদিনই এই কাঠের সেতুর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে,পাঁচকাহনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ উচ্চ বিদ্যালয়,কলেজ, তারাকান্দা ফুলপুর উপজেলা সদরের হাটবাজারে যান।দীর্ঘদিন ধরে এমনভাবেই চলছে বিপদকে সঙ্গী করে এই এলাকার অসহায় জনসাধারণ। তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্যও পায় না যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায়।
উল্লেখ্য যে,প্রথমে এখানে একটি বাঁশের সাঁকো ছিল।সেই সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা মিলে সাঁকোটি সময় সময় মেরামত করতেন।পরবর্তীতে বর্তমান কাঠের সেতুটি নির্মাণ করা হয়।বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হতেই কাঠগুলো পঁচে নষ্ট হতে শুরু করে সেইসাথে আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে পথচলা।সরে যায় দুইপাশ্বের্র মাটি।
কাকনী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন এর সাথে ব্রীজটি নিয়ে কথা বললে তিনি জানান,গত বছর আউটধার গ্রামের আবেদিন সরকারের বাড়ি থেকে শুরু করে পাঁচকাহনিয়া গ্রামের বাক্কার সরকারের বাড়ি পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়,যার অংশ হিসেবে এই ব্রীজটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।এজন্য ৭(সাত) লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল,কিন্তু ব্রিজ পর্যন্ত মাটি কাটা শেষ হলেও,তৎকালীন সরকার পতনের ফলে ব্রীজের নির্মাণকাজ আর এগোয়নি।তারপর থেকে পথচারীদের ভাগ্যে জুটেছে কেবল ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত।আমি এই ব্রীজের কাজ করার জন্য পিআইও ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় এর কাছে আবেদন জানাই।
ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির কাছে দাড়িয়ে থেকে দেখা যায়, এক বৃদ্ধা মহিলা বসে বসে সেতু পার হচ্ছেন, শিশু শিক্ষার্থীগণ ভয়ে ভয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠে ভয়ডর নিয়ে পার হচ্ছে যা সত্যিই হৃদয়বিদারক। তাই বিষয়টিকে জরুরী জনগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নিয়ে শিশু,বৃদ্ধ,নারী ও আপামর জনসাধারণের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ,জেলা প্রশাসক,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সহ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply