
সাভার এলাকায় দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে মশার উপদ্রব। এতে করে জনজীবন যেমন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, তেমনি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এসএসসি পরীক্ষা চলমান—কিন্তু সন্ধ্যা হলেই মশার যন্ত্রণায় বই নিয়ে বসা যেন এক যুদ্ধের নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেকেই যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলছে। গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন পশু-পাখির বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলে রাখায় পরিবেশ ক্রমেই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। এসব অপরিচ্ছন্নতা মশার বংশবিস্তারকে ভয়ঙ্করভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, “স্কুল-কলেজে পড়াশোনা এবং দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা চলছে, কিন্তু রাতে ঠিকমতো পড়তে পারছি না। মশার কামড়ে মনোযোগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করেও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না।”
এদিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। সেই জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার স্তূপ মশার জন্য আদর্শ প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি করছে। এতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা নিজেরাই যদি সচেতন না হই, তাহলে কোনো উদ্যোগই কাজে আসবে না। নিজের ঘরের ময়লা বাইরে ফেলে অন্যের জন্য বিপদ তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
সচেতন মহলের মতে, এখনই সময় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে, আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
একটি সচেতন সমাজই পারে একটি সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে। আজকের সামান্য অবহেলা আগামী দিনের বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই এখনই সতর্ক হয়ে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।
Leave a Reply