
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় লোকচক্ষুর আড়ালে জাল টাকা তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৪)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৫০, ১০০ ও ২০০ টাকা মূল্যমানের মোট ৭৩ হাজার টাকার জাল নোট, একটি ল্যাপটপ, প্রিন্টারসহ জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুলিয়ার মধ্য গাজিরচট এলাকার একটি কারখানার পেছনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার সাজ্জাদ হোসেন আকাশ (২৫) ও মো. ইভান রানা (২০), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মো. মামুন মিয়া (২৪) এবং পটুয়াখালীর মো. নাদিম সর্দার (২০)।
এসআরবি-৪-এর তথ্যমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্য গাজিরচট এলাকায় একটি চক্রের জাল নোট তৈরির তথ্য পাওয়া যায়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, প্রিন্টার, মেশিন ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
এসআরবি কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকা তৈরি ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে চক্রের সদস্যরা আশুলিয়ায় অবস্থান নিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে জাল নোট তৈরি করতেন। পরে এসব নোট দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রি করা হতো।
অভিযানে উদ্ধার করা জাল নোটের মধ্যে ৫০, ১০০ ও ২০০ টাকা মূল্যমানের নোট রয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও জাল নোট তৈরির অন্যান্য সরঞ্জাম। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে কীভাবে নোট তৈরি করা হতো এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত—তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।
এসআরবির দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জাল নোট সরবরাহকারী ও ডিলারদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে যাদের কাছে এসব জাল টাকা সরবরাহ করা হয়েছে, তাদের শনাক্তের পাশাপাশি চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জনবহুল শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার একটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এমন কার্যক্রম চলার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম কীভাবে সেখানে পৌঁছাল, কারা তাদের সহযোগিতা করেছে এবং আশুলিয়া থেকে তৈরি জাল টাকা দেশের কোন কোন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে—এসব বিষয়ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
এসআরবি-৪ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে জাল নোট তৈরির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্য এবং সরবরাহ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
Leave a Reply