
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) মো. আলতাফ হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের দপ্তরে নিহত এসআই আলতাফ হোসেনের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে গেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দেন।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
◾পরিবারকে ৬ লাখ টাকা অনুদান, ব্যবসায় সহায়তার ঘোষণা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সার্বিক কল্যাণে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী নিজে নিহতের স্ত্রী শিউলী পারভীনের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন।
এ ছাড়া পরিবারের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখার সুবিধার্থে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহযোগিতার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
◾মরণোত্তর পিপিএম দেওয়ার উদ্যোগ
দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে এসআই আলতাফ হোসেনকে মরণোত্তর পুলিশ পদক (পিপিএম) দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আলতাফ হোসেন ১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। প্রায় ৪০ বছরের কর্মজীবনে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), রাঙামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও বরিশাল জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।
◾যেভাবে হামলার শিকার হন এসআই আলতাফ
গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধ মেটাতে গিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন হামলার মুখে পড়েন।
মামলার এজাহার ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ হোসেন তাঁর বড় ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেন। পরে রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটের দিকে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলী পারভীন বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং কয়েকজনকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply