
ঢাকার সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক কামরুজ্জামান খান এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসের মালিক হাবিবুর রহমান হৃদয়সহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্বাস উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে আসামিদের স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে সাভারের রেডিও কলোনি ইউটার্ন এলাকায় পুলিশ অবস্থান করছিল। এ সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ জানতে পারে, রেডিও কলোনি স্টাফ কোয়ার্টারের কাছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে একটি বাসে অগ্নিসংযোগের উদ্দেশ্যে কয়েকজন জড়ো হয়েছেন।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা অধিকাংশ ব্যক্তি মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে এবং অন্যরা আশপাশের বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এজাহারে বাসটির মালিক হাবিবুর রহমান হৃদয়কে বাসটি ঘটনাস্থলে রাখার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং অন্যদের সহযোগিতায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জং ও বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম মণ্ডলের নির্দেশ, সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন।
মামলায় সাংবাদিক কামরুজ্জামান খানকে আসামি করার ঘটনায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও ক্র্যাবের পক্ষ থেকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
কামরুজ্জামান খান নিজেও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সাভারে তার বাড়ি হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঢাকায় বসবাস করছেন এবং সেখানেই কর্মরত। তার দাবি, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তার নাম থাকলেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন না।
বর্তমানে তিনি ইংরেজি দৈনিক ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-এর সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানিয়েছেন, তদন্তে কোনো আসামির ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়া গেলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও প্রত্যেক আসামির সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
Leave a Reply