
ঢাকার সাভারে সড়কের পাশে একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামান খানকে আসামি করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও পেশাজীবীরা।
সাভার প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্বাস উদ্দিন বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। কামরুজ্জামান খানকে মামলার ১৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে কামরুজ্জামান খানকে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন ও কর্মরত এবং ঘটনার সময় সাভারে ছিলেন না।
মানববন্ধনে সাভার প্রেসক্লাবের নেতারা বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলে সেখানে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। তারা ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
সাভার প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য আজিম উদ্দিন, নির্বাহী সদস্য ও দৈনিক স্টারের সাংবাদিক আকলাকুর রহমান আকাশসহ কয়েকজন বক্তা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে হয়রানিমূলক মামলার আশঙ্কা নিয়ে বক্তব্য দেন। তারা মামলার বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহ্বান জানান।
সাভার উপজেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমন বলেন, ঘটনাটির সঙ্গে সাংবাদিক কামরুজ্জামান খানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তিনি সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান।
এদিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও ক্র্যাবও কামরুজ্জামান খানকে মামলায় আসামি করার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। ডিআরইউর পক্ষ থেকে মামলায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানিয়েছেন, বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তদন্তে কোনো আসামির ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়া গেলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং প্রত্যেক আসামির সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
Leave a Reply