
সাভার ও আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সময়ে মাদকসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হলেও কিছু এলাকায় মাদক ব্যবসা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে মাদকের বিস্তারকে ঘিরে কিশোরদের সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকা, বস্তি, শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন স্থান এবং নির্জন সড়কের আশপাশে গোপনে মাদক কেনাবেচা চলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন সময়ে মাদকসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর কিছু এলাকায় আবারও মাদক বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়।
তবে কারও বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠলেই তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে জামিনে মুক্ত হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে নতুন করে কোনো অভিযোগ উঠলে সেটিও আইন অনুযায়ী তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
▪️মাদক ব্যবসার সঙ্গে কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ
মাদকের পাশাপাশি সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের সংঘবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, কিছু কিশোর দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের একটি অংশ মাদক গ্রহণ, ছিনতাই বা ছোটখাটো চুরির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে কোনো কিশোর বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে প্রমাণ ছাড়া ‘কিশোর গ্যাং’ হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য হবে।
স্থানীয়দের মতে, মাদক ব্যবসার সঙ্গে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিকে আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই। মাদকের সহজলভ্যতা, সামাজিক ও পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি এবং অপরাধপ্রবণ পরিবেশ—এসব বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
▪️চুরি-ছিনতাই নিয়েও উদ্বেগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, মাদকাসক্ত কিছু ব্যক্তি অর্থের প্রয়োজনে ছোটখাটো চুরি বা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারেন। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ঘটনা, মামলা বা তদন্তের তথ্য ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।
স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসার পাশাপাশি ছিনতাই ও চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আগেই তাদের চিহ্নিত করে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
▪️রিহ্যাবের পর পুনর্বাসনেও নজরদারির দাবি
মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, চিকিৎসা বা রিহ্যাব থেকে ফিরে আসার পর কিছু ব্যক্তি পুনরায় মাদক গ্রহণে জড়িয়ে পড়ছেন। তবে রিহ্যাব থেকে মুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের ‘বেশির ভাগ’ আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন—এমন নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান এই প্রতিবেদনের হাতে নেই।
বিশেষজ্ঞ মতামত বা নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া তাই এ বিষয়ে সাধারণীকরণ না করে চিকিৎসা-পরবর্তী ফলোআপ, পরিবারভিত্তিক সহায়তা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
▪️আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকসহ কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে প্রচলিত আইনে মামলা দেওয়া হয় এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
কোনো ব্যক্তি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি মাদক ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
▪️প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদক ব্যবসা বন্ধে শুধু খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই স্থায়ী সমাধান নাও আসতে পারে। মাদকের সরবরাহব্যবস্থা, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট পুরো চক্র সম্পর্কে আইনসম্মত তদন্তের পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাভার ও আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর ও ধারাবাহিক করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসার অভিযোগে বারবার জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী নজরদারি ও তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং বা কিশোরদের সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি প্রতিরোধে আগাম সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।
Leave a Reply