
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় কাঁচাবাজারগুলোতে অসময়ে মিলছে নানা ঔষধিগুণে ভরপুর সজনে ডাঁটা। অসময়ে সজনে পাওয়া গেলেও ক্রেতাদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। যদিও রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি প্রতি বছরেরই অপ্রিয় চিত্র।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, সজনে ডাঁটা বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া আলুর কেজি ৮-১০টাকা, পেঁয়াজ ২৫ কেজি, টমেটোর কেজি ১৫ টাকা, বেগুনের কেজি ৪০ টাকা, রসুনের কেজি ৭০ টাকা ও কাঁচা মরিজ ৮০-৯০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে।
কাঁচামাল ব্যবসায়ী মশিউর রহমান বলেন, বাজারে এখনও দেশীয় জাতের সজনে ওঠেনি। এ কারণে ভারত থেকে আমদানি করা সজনে ডাঁটা আমরা বিক্রি করছি। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সজনে ডাটা বিক্রি করছি ২৪০ টাকা কেজি দরে। এখন শুরু হচ্ছে রমজান মাস। অন্য মাসের তুলনায় এই রমজান মাসে সবজির চাহিদা বেড়ে যায়।
সবজি ক্রেতা শাহিনুর আলম বলেন, রমজান মাসে পরিবারের ছেলে মেয়েরা মাছ মাংসের চেয়ে সবজি খেতে বেশি পছন্দ করে। তাই বাজারে সবজি কিনতে এসেছি। নতুন সবজি হিসেবে সজনে ডাঁটা কিনলাম। দাম ধরলো ২৪০ টাকা কেজি। যা কিনা বাজারের সবচেয়ে দামি সবজি।
বাজার করতে আসা এনজিও কর্মী বীথি রায় বলেন, আমরা এনজিওর চাকরি করি, সারা দিন সময় পাইনা তাই বিকেলে রেলওয়ে পার্ক বাজারে এসেছি। বাজারে এসে সজনে ডাঁটা দেখে লোভ হল।
অন্যান্য সবজির চেয়ে সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় সজনে যে কোনো বয়সের মানুষ খেতে ভালোবাসে। প্রতি বছর শীতের শেষে সজনে গাছ ভরে যায় ফুলে ফলে। এবছরেও উপজেলার বসত বাড়ির আশপাশে, রাস্তার ধারে, পুকুর পাড়ে এমনকি মাঠের ফসলের আইলের গাছে গাছে এখনও প্রচুর পরিমাণে সজনে ফুল ধরতে দেখা গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর সজনে ডাঁটার ভাল ফলন হতে পারে।
পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার রাশিদুল হক রাসেল জানান, উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা মিলে ৩১ ব্লকে সজনে চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি ব্লকে ১০০ সজনে চাষে বিনা পুঁজিতে চাষীদের উৎসাহিত করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব হুসাইন বলেন, বীজ রোপণ ছাড়াই শুধু সজনের ডাটা রোপণ করেই চাষ করা যায়। এবার উপজেলার কৃষকদের সজনে চাষে বিনা পুঁজিতে বাণিজ্যিকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। এবছর সজনে সম্প্রসারণে প্রতি ব্লকে ১০০ সজনে ডাটা লাগানো হয়েছে। এছাড়া মন্মথপুর ইউনিয়নে ৩ কিলোমিটার জুড়ে সজনে চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এতে অনেকেই লাভবান হচ্ছেন। আশা করছি, চৈত্র মাসের শেষের দিকে দেশীয় সজনে ডাঁটা বাজারে পাওয়া যাবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর সজনে ডাটার বাম্পার ভাল ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Leave a Reply