
হে আল্লাহ, এদের বিচার কইরো”—পিতার ওপর হামলার বিচার চেয়ে মেয়ের করুণ আর্তনাদ
বাবা সন্তানের মাথার ওপর সবচেয়ে বড় আশ্রয়।আর সেই বাবাকেই যখন অসহায় অবস্থায় মারধরের শিকার হতে হয়, তখন সন্তানের বুকফাটা আর্তনাদ ছাড়া আর কী-ই বা করার থাকে!বাবাকে মারধরের বিচার চেয়ে এক ফেইসবুকে স্ট্যাটাস এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হল ফুলপুর
ফুলপুর উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাইমা চৌধুরী তার বাবার ওপর হামলার বিচার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস প্রকাশ করেছেন।মুহূর্তেই সেটি ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়।অসংখ্য মানুষ তার কষ্টের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্ট্যাটাসে নাইমা লিখেছেন,“আমার বাবার মুখের দিকে তাকালে আমার অনেক কষ্ট হয়। আল্লাহ কেন আমাকে ছেলে বানালো না!আজ যদি ছেলে হতাম,তাহলে বাবাকে ইনকাম করে খাওয়াতে পারতাম।এই বয়সে তাকে আর কষ্ট করতে হতো না।আমার বাবা হাঁটতে গেলেও শরীর কাঁপে, আর সেই মানুষটাকেই মারধর করা হয়েছে।হে আল্লাহ, তুমি তো সব দেখছো,এদের বিচার কইরো।”
জানা গেছে,দুই দিন আগে নাইমার বোনের ছোট সন্তান খেলতে গিয়ে প্রতিবেশী শিশুদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে।অভিযোগ,সেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা নাইমার বৃদ্ধ বাবার ওপর হামলা চালায়।
নাইমা জানান তাদের পাঁচ বোন হলেও কোনো ভাই নেই। এই বিষয়টিকে দুর্বলতা হিসেবে ধরে কিছু প্রতিবেশী বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে ঝামেলা সৃষ্টি করে আসছে।সর্বশেষ হামলার ঘটনায় পুরো পরিবার আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
নাইমার স্ট্যাটাসে ফুটে উঠেছে এক অসহায় মেয়ের গভীর বেদনা,বাবার প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা এবং ন্যায়বিচারের আকুতি।তার আবেগঘন লেখাটি অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।মন্তব্যের ঘরে অনেকে নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply