
অনন্তর শূন্যে পরিভ্রমমান নীহারিকার অভ্যন্তরে,
নক্ষত্রপুঞ্জের মৃত্যু-দীপ্তি জ্বলে নির্বাক।
সূর্য — এক উল্কাপিণ্ডের সম্রাট,
প্রতি পলে নিজ অস্তিত্ব বিসর্জন দেয় আলোক-উৎসর্গে।
বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল —
কালপুরুষের পদানত অনুচর।
বৃহস্পতির বুকে ঘূর্ণিঝড়ের শাসন,
শনির কটিদেশে বলয়ের বন্দনা।
ইউরেনাস নীলাভ শীতে কম্পমান,
নেপচুন দূরত্বের অভিশাপে একাকী।
ধ্রুবতারা নিশ্চল, বাকি সব ভ্রাম্যমাণ।
চন্দ্র — নিশীথের রজত-প্রহরী,
জোয়ার-ভাটার নিয়ন্তা, উন্মাদের আরাধ্য।
উল্কাপাত — আকাশের ছিন্ন চিঠি,
মানবাকাঙ্ক্ষার দহন-সাক্ষী।
নেবুলার গর্ভে জন্ম নেয় রঙের বিদ্রোহ,
কৃষ্ণবিবর গ্রাস করে সময়ের আয়ু।
ধূমকেতু — শতাব্দীর বার্তাবাহক,
লেজে বয়ে আনে প্রলয়ের পূর্বাভাস।
আকাশের অন্তঃস্থলে যা কিছু আছে —
কোয়াসার, পালসার, ছায়াপথের পাকদণ্ডী —
সবই নিঃস্বার্থ আত্মদানের প্রতিমা।
কারণ আলো হতে হলে আগে জ্বলতে হয়।
জ্বলতে হলে আগে পুড়তে হয়।
আর আমি?
এই গ্রহাণুর ধূলিকণায় দাঁড়িয়ে
মহাবিশ্বের কাছে ঋণী।
কারণ সে না জ্বললে
আমার কলমে কালি আসতো না।
Leave a Reply