
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় বিলের পানি থেকে পাঁচ মাস বয়সী যমজ দুই বোনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে, শিশু দুটির জন্মদাত্রী মা শান্তা বেগমই (২২) তাদের হত্যা করেছেন।
মানিকনগরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ মিজানুর:স্ত্রী-সন্তানের চোখে অন্ধকার
বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে শান্তা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
শান্তা বেগম বলেন, “দুই বছর আগে মো. সোহাগ শেখের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আমাদের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। যমজ সন্তানের জন্মের পর থেকে আমি বাবার বাড়িতে থাকছিলাম। কিছুদিন আগে স্বামী আমাকে তার বাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর তিনি বাজার করেননি, বাচ্চাদের জন্য দুধও আনেননি। এ নিয়ে ঝগড়া হতো, মাঝে মাঝে মারধরও করতেন। আমি নিজেও শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার দিন বিকেলে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। সন্ধ্যায় তাকে ফোন করে দুধ আনতে বললে তিনি উল্টো চিৎকার করে বলেন, ‘তোর মেয়ে, তুইই সামলা।’ এতে আমার মাথা ঠিক থাকে না। রাগের মাথায় আমি প্রথমে ছোট মেয়ে সামিয়াকে, পরে বড় মেয়ে লামিয়াকে বাড়ির পাশের বিলের পানিতে ফেলে দেই। পরে ঘটনাটি আমার স্বামীকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে প্রতিবেশীদের বলি, সে-ই নাকি মেয়েদের পানিতে ফেলে দিয়েছে।”
ঘটনার পর স্থানীয়রা বিল থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সালমান রহমান জানান, ঘটনার সময় সোহাগ বাজারে ছিলেন, যা তার মোবাইল লোকেশন এবং সিসিটিভি ফুটেজে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরপর শান্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।
তিনি আরও বলেন, “শিশুগুলোর বাবা মেয়েসন্তান হওয়ায় উদাসীন ছিলেন। সন্তানদের দেখভাল করতেন না। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন মা শান্তা। পারিবারিক কলহ ও অভাবের চাপের কারণেই তিনি এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নেন।”
নালায় পড়ে নিখোঁজ শিশু,উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিস
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই নির্মম ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Leave a Reply