
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল কবির আহমেদকে ‘ইলিগ্যালি অ্যাবসেন্ট’ বা অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত হিসেবে ঘোষণা করেছে সেনাসদর। তিনি যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেজন্য সব স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা সেনানিবাসের মেসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।
তিনি বলেন, “গত ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনটি চার্জশিট জমা পড়ে। এর মধ্যে একটি গুম সংক্রান্ত, যেখানে ডিজিএফআইয়ের বেশ কিছু কর্মকর্তার নাম রয়েছে; অন্য দুটি র্যাবের টিএফআই ও রামপুরার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।”
“চার্জশিট জমার পরপরই ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং তা আইজিপির কাছে পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চার্জশিট বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি পায়নি,” জানান তিনি।
হাকিমুজ্জামান বলেন, “চার্জশিটে মোট ২৫ জন সেনা কর্মকর্তার নাম রয়েছে—এর মধ্যে অবসরে আছেন ৯ জন, এলপিআরে আছেন একজন এবং কর্মরত আছেন ১৫ জন। আমরা ৮ অক্টোবর কর্মরত ও এলপিআরে থাকা কর্মকর্তাদের সেনা হেফাজতে আসার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তারা ৯ অক্টোবর সেনানিবাসে হাজির হওয়ার কথা ছিল।”
তিনি আরও জানান, “সব কর্মকর্তা হেফাজতে এসেছেন, শুধু একজন ছাড়া—তিনি মেজর জেনারেল কবির আহমেদ। ৯ অক্টোবর পর্যন্ত তার কোনো সাড়া মেলেনি। পরে ১০ অক্টোবর তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, এমনকি পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। পরিবার জানায়, তিনি সেদিন সকালে এক আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, এরপর আর ফেরেননি।”
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, “পরিস্থিতি বিবেচনায় ১০ অক্টোবর তাকে ‘ইলিগ্যালি অ্যাবসেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ডিজিএফআই, এনএসআই ও বিজিবিকে জানানো হয়েছে যেন তিনি কোনোভাবেই স্থল, নৌ বা বিমানপথে দেশত্যাগ করতে না পারেন। নেত্রকোনায় তার গ্রামের বাড়িতেও অনুসন্ধান চালানো হয়েছে।”
তিনি যোগ করেন, “আমি নিজে ডিজি-ডিজিএফআই, ডিজি-এনএসআই এবং ডিজি-বিজিবির সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে তিনি দেশের বাইরে যেতে না পারেন।”
Leave a Reply