
সাভার পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অলিগলিতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার সরু রাস্তায় কুকুরের অবাধ বিচরণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, শিশু এবং বয়স্করা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি:
সরেজমিনে দেখা যায়, সাভারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং আবাসিক এলাকার অলিগলিতে ১০-১৫টি কুকুরের একেকটি দল অবস্থান করছে। দিনের বেলা এগুলো শান্ত থাকলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। পথচারী বা মোটরসাইকেল আরোহী দেখলেই কুকুরের দল তেড়ে আসছে। গভীর রাতে কুকুরের আর্তনাদ ও ঘেউ ঘেউ শব্দে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে এবং মানুষের স্বাভাবিক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটছে।
জনদুর্ভোগ ও ঝুঁকি:
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে রাস্তা দিয়ে একা চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কুকুরের কামড়ে সাধারণ মানুষ আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। বিশেষ করে ভোরে যারা মসজিদে নামাজ পড়তে যান বা যারা প্রাতঃভ্রমণে বের হন, তাদের জন্য এই বেওয়ারিশ কুকুরের দল বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুকুরের সংখ্যাধিক্যের কারণে জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে কয়েক গুণ।
পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা:
রাস্তার পাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ও খাবারের উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকায় সেখানে কুকুরের আনাগোনা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডাস্টবিনগুলোর আশেপাশে কুকুরের অবস্থান পথচারীদের জন্য যাতায়াত কষ্টকর করে তুলছে।
জনগণের দাবি:
এলাকাবাসীর দাবি, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে কুকুর নিধন না করে এগুলোকে দ্রুত স্থানান্তর অথবা জন্মনিয়ন্ত্রণ ও টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হোক। সাভারের সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে পৌর কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা শিশুদের নিয়ে রাস্তায় বের হতে ভয় পাই। মাঝেমধ্যেই কুকুরের দল ছোট বাচ্চাদের দিকে তেড়ে আসে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই পারে সাভারবাসীকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে।
Leave a Reply