
গোপালগঞ্জ জেলার গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন গোপীনাথপুর সাকিনের মোঃ আতিয়ার রহমান মোল্লা এর ছেলে মোঃ ফোরকান মোল্লা (৪০) (আসামী) এর সাথে মোছাঃ শারমিন (৩৫), পিতা-মোঃ শাহাদৎ মোল্লা, গ্রাম-পাইককান্দি (ফকির বাড়ি), থানা ও জেলা-গোপালগঞ্জ এর পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে মোসাঃ মীম (১৬), মোসাঃ মারিয়া (০৮) এবং মোসাঃ ফারিয়া (০২) জন্মলাভ করে। বিয়ের পর থেকে খুঁটিনাটি বিষয়াদি নিয়ে তাদের মধ্যে ঝঁগড়া বিবাদ হতো। আনুমানিক ০৬মাস পূর্বে আসামী মোঃ ফোরকান মোল্লা (৪০) তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানাধীন রাউৎকোনা পূর্বপাড়া গ্রামে জনৈক মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিল। আসামী মোঃ ফোরকান মোল্লা (৪০) পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক ছিল।
গত ০৮-০৫-২০২৬খ্রি. রাত আনুমানিক ০৮:০০ ঘটিকায় আসামী মোঃ ফোরকান মোল্লা (৪০) তার শ্যালক মোঃ রসূল মোল্লা (২২)’কে গার্মেন্টস এ চাকরি দেওয়ার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে তার ভাড়াকৃত বাসায় নিয়ে আসে।
গত ০৮-০৫-২০২৬খ্রি. রাত আনুমানিক ০৮:০০ ঘটিকা হতে ০৯-০৫-২০২৬খ্রি. ভোর আনুমানিক ০৫:০০ ঘটিকার মধ্যবর্তী যেকোন সময়ে পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক রাতের খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ অথবা অন্য কোন অচেতন করার সামগ্রী মিশিয়ে খাওয়াইয়ে আসামী মোঃ ফোরকান মোল্লা (৪০) অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন আসামীসহ তার স্ত্রী, ০৩ কন্যা সন্তান এবং শ্যালককে ধারালো চাপাতি দ্বারা কুপিয়ে হত্যা করে। ভিকটিম মোছাঃ শারমিন (৩৫) এর পিতা মোঃ শাহাদৎ মোল্লা এর এরুপ অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানার মামলা নং-১৭, তারিখ: ১০-০৫-২০২৬খ্রি. ধারা- ৩২৮ /৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। মামলাটির তদন্তভার কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ যোবায়ের এর ওপর অর্পন করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার গাজীপুর, অফিসার ইনচার্জ, কাপাসিয়া এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দলসহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা গাজীপুর এর একটি চৌকস আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে প্রেরণ করেন। কাপাসিয়া থানা পুলিশ কর্তৃক লাশ ০৫টির সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করতঃ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গাজীপুর মর্গে প্রেরণ করে ময়নাতদন্ত সম্পন্নপূর্বক লাশগুলোকে নিকটাত্মীয়ের নিকট হস্তান্তর করে এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাপাতিসহ ঘটনা সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক মালামাল জব্দ করেন।
পুলিশ সুপার, গাজীপুর এর তদারকিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১১-০৫-২০২৬খ্রি. আসামীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি মেহেরপুর জেলার সদর থানা এলাকা হতে উদ্ধার করা হয়। তদন্তকালে জানা যায়, একটি ট্রাকের জনৈক হেল্পার গত ১১-০৫-২০২৬খ্রি. সকাল আনুমানিক ০৬:৫০ ঘটিকায় পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে রেলিং এর পাশে মোবাইল ফোনটি পড়ে থাকতে দেখে হেফাজতে নেয়। তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান এবং পদ্মা সেতুর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, একই তারিখ সকাল ০৬:৪২ ঘটিকায় এক ব্যক্তি সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার হতে পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে নেমে হেল্পার কর্তৃক মোবাইল প্রাপ্তির স্থানে কিছু একটা রেলিং এর পাশে রেখে ২/৩ মিনিট অপেক্ষা করে পদ্মা সেতুর রেলিং টপকিয়ে পদ্মা নদীতে ঝাপ দেয়। তদন্তে জানা যায়, পদ্মা নদীতে ঝাপ দিয়ে পড়া সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত ব্যক্তিটি আসামী মোঃ ফোরকান মোল্লা (৪০)। ধারণা করা হয় আসামী মোঃ ফোরকান মোল্লা (৪০) পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার স্ত্রী, ০৩কন্যা সন্তান এবং শ্যালককে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতু হতে পদ্মা নদীতে ঝাপ দিয়েছে। এ সংক্রান্তে পদ্মা সেতুর আশেপাশের সকল থানায় বেতার বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। মামলাটির তদন্ত চলমান।
সর্বশেষ খবর পাওয়া গেছে যে,মোঃ ফোরকান মোল্লা’র লাশ নদীতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
Leave a Reply